PhD আজকাল একটু কঠিনই হয়ে পড়ছে দিন দিন। স্কলারশিপ পাওয়া হতে শুরু করে টপিক ঠিক করা,সময়ভাগ করা,পড়াশুনা করা,থিসিস লেখা, থিসিস এর রিভিউ পাশ হওয়া, ডিফেন্স পাশ করা, গবেষণা পত্র প্রকাশ, ডিগ্রিপাওয়া.... ইত্যাদি। তাই আমরা নিচের কাজগুলিকে আলাদা আলাদা ছকে ফেলে শুরু করবো। তাহলেই PhD একটু সহজ হতে পারে। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা :)
ইউনিভার্সিটি কি চায়ঃ
- আপনার বিশ্ববিদ্যালয় PhD ডিগ্রি দিতে আপনার হতে কি কি চায়, সব ডকুমেন্ট, রিকোয়ারমেন্ট ভাল করে বুঝে নেবেন যেমনঃ ২টি কনফারেন্স, ৩টা পাবলিশড পেপার, ১টি বই ইত্যাদি যা বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়।
- এর আগে কে কে ওই বিশ্ববিদ্যালয় হতে PhD নিয়েছেন তাদের সাথে যোগাযোগ করে নিলে বাল হয়। সব শুনে লিপিবদ্ধ করে রাখবেন যেন কোন ডকুমেন্ট মিস না হয়। নাহিলে পরে দৌড়াদৌড়ি লেগে যাবে, সাথে হয়রানি বোনাস......
প্রফেসর কি চানঃ
আপনি যে রিসার্চ প্রোপজাল দিয়েছিলেন তাই যে আপনাকে দিয়ে করাবে তা ভাবা ভুল। তাই প্রফেসর কনো ধরনের কাজ করছেন এখন, তার ল্যাবে কি কি করা যায়, তিনি কি পছন্দ করেন, তা ঘুরে ঘুরে লিখে প্রফেসরের সাথে আলোচনা করে ঠিক করে নিতে হবে। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
টপিক নির্ধারণঃ
- সাধারণত PhD কয়েকটা চ্যাপ্টারে করতে হয়। তাই একই বিষয়ের ২-৩টি পরীক্ষা/এক্সপেরিমেন্ট রাখা ভাল।
- আপনি যা যা করতে চান তার যন্ত্রপাতি ও কেমিক্যাল আপনার প্রফেসর দিতে পারবেন কিনা তা দেখে নিতে হবে।
- এরপর টপিক খুঁজে পেলেই সুন্দর করে প্রেজেন্টেশন বানিয়ে প্রফেসরকে দেখান। বলুন যে কি কি কাজ হয়েছে, কি কি গ্যাপ আছে, আর আপনি সেই গ্যাপ এর কতটা কিভাবে পূরণ করতে চান....ব্যাস, খেলার শুরু এখানেই.... বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
কাজের সময় সীমাঃ
সময় বেঁধে কাজ করবেন নতুবা ঢিলামী পড়ে যেতে পারে। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় ৩-৪ বছরের সময় বেঁধে দেয় PhD করবার জন্য। তাই আদিকালের মতো ৭-১০ বছরের PhD হয়না আজকাল.... ধরেনঃ
- ৩ মাস পড়াশোনা....
- ২মাস স্যাম্পল সংগ্রহ/এক্সপেরিমেন্ট করা...
- ২ মাস তা বোঝা, বিচার বিশ্লেষন করা...
- ৩ মাস তা নিয়ে পেপার ও থিসিস লেখা....
- ৩-৪ মাস তা ছাপানো সময়...
মোট ১ বছর ধরে রাখতে হবে। এভাবে ৩-৮ বছর। নতুবা সমূহ বিপদ সামনে অপেক্ষা করছে। তাই সাধু সাবধান। প্রথমেই কিছু প্রাকটিস করে নেবেন যে কি কি কাজ করবেন। তাই কেমিকেল বেশি করে অডার্র করবেন বা স্যাম্পল বেশি করে নেবেন যেন নষ্ট হলেও কভার দেয়া যায়। দেশে অনেক সময় কিন্তু বাজেট নাই, কিন্তু বিদেশে অঢেল বাজেট কিন্তু সময় কম, তাই দুদিকেই চাপে থাকতে হয়। এজন্য ভাল করে প্ল্যান করবেন।
পড়াশোনাঃ
নিজে নিজে পড়তে হবে। এটা একটি কঠিন কাজ। পেটানোর কেউ নেই। পড় পড় বলবারও কেউ নেই। নিজের গরজে ফরজ আদায় করতে হবে। আর এখানেই ম্যাচিউরিটি। নিজের টপিকের হাবিজাবি বাদ দিয়ে সমস্ত রিলেটেড পেপার, বই নামিয়ে/সংগ্রহ করে ফেলতে হবে নিচের ওয়েবসাইটগুলি খুবই কার্যকর তা খুঁজতে.....

গবেষণা খোঁজার ওয়েবসাইট সমূহ...
তাই সরাসরি শুধু গুগলে Search দিলে সব নাও মিলতে পারে এজন্য গভীরভাবে খুঁজতে সাইটগুলিতে ঢুকে Search দিতে হবে। কী-ওয়ার্ড ঘুরিয়ে পেচিয়ে ব্যবহার করবেন, তাই সরাসরি শুধু গুগলে Search দিলে সব নাও মিলতে পারে এজন্য গভীরভাবে খুঁজতে সাইটগুলিতে ঢুকে Search দিতে হবে। কী-ওয়ার্ড ঘুরিয়ে পেচিয়ে ব্যবহার করবেন, Synonym ব্যবহার করবেন Search দেবার সময়.... তাহলেই মোটামুটি রিলেডেট সব পেপার পেয়ে যাবেন ইনশাল্লাহ :)
থিসিস লেখাঃ
প্রথম বছর হতেই Introduction লেখা শুরু করে দিতে হবে। এখনকার PhD এর একটা স্টাইল চলছে যে সব পেপর নামিয়ে পড়ে সামারি করে Review লেখা শুরু করা, তাহলে টপিক টা সম্পর্কে খুব ভাল ধারণা হয়ে যায়। থিসিসের জন্য প্রতিদিন ৫ লাইন করে লিখলে বছরে ৩৬৫ দিনের জায়গাতে ৩০০ দিন ধরলে ১৫০০ লাইন, ৩ বছরে ৪৫০০ লাইন, প্রতি লাইনে ৫টি শব্দ হলে ২২,৫০০ শব্দ... সাধারণত ২৫ হাজার শব্দের বেশি PhD থিসিসে লেখার প্রয়োজন হয়না..... সুতরাং.... শুরু করেন....
প্রেজেন্টেশন বানানো ও অনুশীলনঃ
থিসিস পাশ হয়ে গেলেই বা তার আগেই থিসিস লেখা শেষ হলেই প্রেজেন্টেশন বানানো শুরু করে দিতে হবে ও তা বার বার অনুশীলন করতে হবে। বিস্তারিত জানতে এখানেঃ ক্লিক করুন।
গবেষণাপত্র প্রকাশঃ
দিন দিন এই বিষয়টি অনেক কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাই নতুন নতুন আইডিয়া, পুরাতন বিষয় নতুন ভাবে তুলে ধরা, নতুন নতুন গ্রাফ বানানো, নতুন ধরনের দিন দিন এই বিষয়টি অনেক কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাই নতুন নতুন আইডিয়া, পুরাতন বিষয় নতুন ভাবে তুলে ধরা, নতুন নতুন গ্রাফ বানানো, নতুন ধরনের analysis শিখতে হবে। এর জন্য যতবেশি নতুন পেপার পড়বেন তত ভাল। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
ব্যাস! হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ :) জয় বাংলা
Comments
Post a Comment