সানি, এত ছোট থিসিস লেখলে হবে না, কমপক্ষে ৫০ পৃষ্ঠা তো করো.... দেশী সুপারভাইজরের মুখে এ কথা শুনে আমি চৌটানায় পড়ি.... পেপার লিখতে হলে যদি ৭-১১ পৃষ্ঠাতেই হয়ে যায় তবে সেই জিনিসের থিসিস কেন বড় করতে হবে বা এত এত এত লিখতে হবে..... মনে হচ্ছিলো জীবনটা থিসিস লিখতে লিখতেই বুড়ো হয়ে যাবে... তবে একথা সত্য যে কপিপেস্ট বিদ্যার জোরে আমাদের অনেকেই থিসিস ৭ দিনে সটান করে ফেলে.... পরে গবেষনাপত্র বা পেপার লিখবার সময় ধরা খায়।
তবে থিসিস লেখবার ধাপ, নিয়ম ও কারুকার্য Research Methodology নামক কোর্সে পড়ানো হয়। তবে সব ডিপার্টমেন্টের সবাই তেমন সৌভাগ্যবান নাও হতে পারেন এই কোর্স পাবার..... হাহাহা.... আমরা গবেষণা চাই কিন্তু গবেষণা কি করে করতে, পড়তে, লিখতে, দেখাতে হয় তা শেখাই না.... জয় বাংলা !!
আসুন বাংলাতে তা দেখে নেয়া যাক...
Title
শিরোনাম লেখার এক এক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক এক ডিজাইন ব্যবহার করার হয়। বড়ভাইয়ের থিসিস দেখে কপি মারুন। শেষ।
Declaration
এখানে আপনি লেখবেন যে এই থিসিস করতে গিয়ে আপনি কোন চুরি করেননি ও কপি করেন নি কাউকে, পরিশ্রম করেছেন.... হালকা নিজের ঢোল পিটিয়ে নিচে সই করুন। এখানে আপনি লেখবেন যে এই থিসিস করতে গিয়ে আপনি কোন চুরি করেননি ও কপি করেন নি কাউকে, পরিশ্রম করেছেন.... হালকা নিজের ঢোল পিটিয়ে নিচে সই করুন। (বড় ভাইয়ের থিসিস হতে ফরম্যাট দেখে নিন)
Approval Certificate
এখানে আপনার সুপারভাইজর উপরের কথাটি আপনার পক্ষ হতে লিখে সুপারিশ করবেন ও সই করবেন। ফরম্যাট আপনাকেই বানাতে হবে। তিনি খালি খোঁচা দেবেন কলমের। এখানে আপনার সুপারভাইজর উপরের কথাটি আপনার পক্ষ হতে লিখে সুপারিশ করবেন ও সই করবেন। ফরম্যাট আপনাকেই বানাতে হবে। তিনি খালি খোঁচা দেবেন কলমের। (একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাইয়ের থিসিস হতে ফরম্যাট দেখে নিন)
Acceptance Certificate
এখানে আপনার চেয়ারম্যান স্যার আপনার কাজটি গ্রহন করলেন কিনা তা লিখে স্বাক্ষর করে জানাবেন। ফরম্যাট আপনাকেই বানাতে হবে। তিনি খালি খোঁচা দেবেন কলমের। এখানে আপনার চেয়ারম্যান স্যার আপনার কাজটি গ্রহন করলেন কিনা তা লিখে স্বাক্ষর করে জানাবেন। ফরম্যাট আপনাকেই বানাতে হবে। তিনি খালি খোঁচা দেবেন কলমের। (বড় ভাইয়ের থিসিস হতে ফরম্যাট দেখে নিন)
ACKNOWLEDGEMENTS
থিসিস করতে কে কে সাহায্য করেছেন... বন্ধু বান্ধব ও স্যারেদেরকে তৈলমর্দনের জায়গা এটা.... কোন আর্থিক সহযোগীতা থাকলে উল্লেখ করতে হবে এখানে। থিসিস করতে কে কে সাহায্য করেছেন... বন্ধু বান্ধব ও স্যারেদেরকে তৈলমর্দনের জায়গা এটা.... কোন আর্থিক সহযোগীতা থাকলে উল্লেখ করতে হবে এখানে। (বড় ভাইয়ের থিসিস হতে ফরম্যাট দেখে নিন)
ABSTRACT
পুরো থিসিসের রেজাল্টটা সংক্ষেপে ১০-১৫ লাইনে ধারণা দিয়ে উপসংহারটাইপ ১ লাইন দিলে ভাল হয়। ছোট খাট গবেষণাতে এটা ১ পৃষ্ঠার বেশি করা দৃষ্টিকটু। তবে বড় বড় গবেষণাতে হতেও পারে।
CONTENTS
কোন পৃষ্ঠায় কোন নামের হেডিং, সাব-হেডিং সেকশন আছে তা নামসহ ক্রমানুসারে ছকবদ্ধ করতে হবে। সাথে দিতে হবে পৃষ্ঠা নম্বর।
LIST OF TABLES
সবগুলি ছকের পুরো শিরোনাম ও ক্রম সহ এখানে যাবে। পেজ নম্বর দিতে হবে।
LIST OF FIGURES
সবগুলি গ্রাফের পুরো শিরোনাম ও ক্রম সহ এখানে যাবে। পৃষ্ঠা নম্বর দিতে হবে।
LIST OF PLATES
সবগুলি ছবির পুরো শিরোনাম ও ক্রম সহ এখানে যাবে। পৃষ্ঠা নম্বর দিতে হবে। প্রয়োজনীয় ছবি দেবেন। মিসকিনরা বেশি ছবি দিয়ে প্রিন্ট করতে গিয়ে মারা খায়।
LIST OF APPENDIX
বাড়তি তথ্যের লিস্ট দিতে হবে, ক্রম, নাম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ..... (যদি থাকে)
LIST OF ABBREVIATIONS
যদি থিসিসে সংক্ষেপে কোন সংকেত থাকে তার পুরোনাম এখানে লিস্ট আকারে ছক করে লিখতে হবে... উদাহরণঃ হা.হা.লু.প.=হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়লাম।
LIST OF GLOSSARY
যদি থিসিসে এমন কোন প্রতীকি শব্দ থাকে যার সংগা দেয়া প্রয়োজন তবে তা এখানে লিখতে হবে অক্ষরের ক্রমানুসারে।
উদাহরণঃ মুরাদ টাকলা= যে ব্যক্তি বাংলা ভাষাকে উচ্চারণ অনুযায়ী ইংরেজী অক্ষর দিয়ে লিখতে গিয়ে ভাষাচ্যুতি ঘটায় তাকে মুরাদ টাকলা বলে।
INTRODUCTION
ধরুন মূলা নিয়ে গবেষণা করছেন। তার সাইজ কেমন হয় তা দেখবেন আপনার দেশের মাটিতে। এখানে তার ইতিহাস শুরু করুন। মূলা কি, কোথায় পাওয়া যায়। কি কি উপাদান আছে। কারা খায়। কারা খায় না। কি কি কাজে মূলা লাগে। আপনি যা করতে চাচ্ছেন তা আগে কে কে করেছে, না করে থাকলে কেন করেনি, কে কে কতটুকু মূলার মূলদগম করেছে.... সবশেষে আপনি কি কি করবেন তার লিস্টি অবজেক্টভ আকারে দিয়ে দেবেন।
REVIEW OF LITERATURE
অন্যান্য দেশে বা নিজ দেশে মূলার উপর এর আগে যত কাজ হয়েছে তার যতগুলি পারা যায় রেফারেন্স সহ গুরুত্বপূর্ণ ২-৩ লাইন পরপর প্যারা করে লিখে দিন। যত পেপার পড়বেন তত সমৃদ্ধ হবে ইহা। তত বাড়বে পেজ।
MATERIALS AND METHODS
মূলা লাগাবেন কোথায় বা কোথা হতে মূলা পাবেন বা সংগ্রহ করবেন। কিভাবে করবেন। কি দিয়ে করবেন। কোন কোন পজিশনে করবেন। সবকিছুর বিশদ বর্ণনা এখানে যাবে। ছবি সহ। করা শেষে তা বিশ্লেষণ কিভাবে করবেন, কোন কোন এনালাইসিস দেবেন, কোন কোন সফটওয়ার ব্যবহার করেছেন, কি কি যন্ত্রপাতি লেগেছে - তাও শেষে লিখে দিতে হবে।
RESULTS
কি পেলেন, কত পরিমানে পেলেন, কত ধরনের পেলেন, কত ভাবে পেলেন, কত সময় ধরে পেলেন সব লেখুন :) ছকে ডাটা দেখান, গ্রাফ বানান। পরিসংখ্যান শিখুন। তা এখানে প্রয়োগ করুন। আমার জীবনে বায়ো-স্টাটিস্টিকস পড়ে কী লাভ তা পড়ার সময় বুঝতে না পারলেও বাকী জীবনের এপর্যন্ত খালি পরিসংখ্যানই করে গেলুম.... :( আমি নাই। রেজাল্ট পয়েন্টাকারে প্যারা প্যারা করে লিখবেন যেন এক বিষয়ের সাথে অন্য বিষয় মিক্স না খায়।
DISCUSSION
রেজাল্ট যেই সিরিয়ালে লিখেছেন, ডিসকাশন বা আলোচনাও সেই সিরিয়ালে করা প্রয়োজন। আপনার পাওয়া ফলাফলের সাথে লিটারেচার ভিউয়ের তুলনা করুন। যে তারা কিভাবে করেছে। আপনি তাদের মতো করে কেমন ফল পেয়েছেন। আপনি ভিন্নভাবে করলে তার কারণ কি। ওর অমন কেন হলো আর আমার এমন আসলো কেন। সব তুলনা এখানে হবে। একটা ছকে বিভিন্ন দেশের জায়গাতে পাওয়া মূলার সাইজ রেফারেন্স সহ দিয়ে নিচে নিজের পাওয়া সাইজটি দিয়ে একটা ওসাম তুলনা হতে পারে। যেখানে সহজেই বোঝা যেতে পারে কার (গবেষণা করে পাওয়া) মূলা কত লম্বা...... এরজন্য একটু কষ্ট করে পেপার পড়ে বের করতে হয় আর কি.... কষ্ট না করলে কি কেষ্টে মেলে.... ????
CONCLUSION
থিসিসের উপসংহার দেড় পেজেরও বেশি হতে দেখেছি। হাহাহা। পুরো থিসিসের সামারি, ভবিষ্যতে মূলার সাইজ বাড়ানোর জন্য কি কি করা যেতে পারে তার রিকমেন্ডেশন ও আপনার (গবেষণাকৃত) মূলার লিমিটেশন দিতে পারেন। ভাল হবে। পৃষ্ঠাও বাড়বে।
REFERENCES
কত জনের পেপার পড়ে তাদের গবেষণার লাইন ব্যবহার করেছেন তাদের রেফারেন্স দিতে হবে যার নানা নিয়ম আছে এক এক জার্নাল এক এক নিয়ম অনুসরণ করে তাই যেকোন প্রকাশিত পেপারের শেষে রেফারেন্স লেখবার স্টাইল দেখলেই ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে থিসিরে রেফারেন্স কেমন হতে তা বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক করে দেন। আপনি সেখান হতে ফরম্যাট নিয়ে নিন।
APPENDICES
এই মূলার সাইজ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে যদি কোন বাড়তি তথ্য পাওয়া যায় যা আপনার গবেষণাতে তেমন লাগেনি কিন্তু পরবর্তি মূলাজ্ঞানীদের লাগতে পারে; তবে তা এখানে দেয়া যেতে পারে যেমনঃ মূলার রং, পুরুত্ব, গন্ধ, স্বাদ, পাতার সংখ্যা ইত্যাদি ছকাকারে লিপিবদ্ধ করতে পারেন। (যদি থাকে, না দিলেও চলে, খালি পৃষ্ঠা বাড়ানির ধান্দা আর কি)
ব্যস!!! হয়ে গেল এক বিশাল থিসিস ব্যাপি মূল্যাৎকার। পেজ বাড়ান। মোটা থিসিস দেখলে দেশে লোকে সমীহ করে।
কারণ Thickness matters. -_-
(সবসময় মনে রাখবেন, গবেষণাতে, সুপারভাইজরই সুপারবস)
Comments
Post a Comment