Skip to main content

বিদেশ নাকি Beক্যাশ?

 ভাইয়া, পাশ করে জব করবো নাকি উচ্চতর পড়াশুনা করবো? পরিবারের হাল ধরবো নাকি বিদেশ যাবো ? এমন নানা সত্য, জীবনমুখী কিন্তু হতবিহব্বল করে দেবার মতো প্রশ্ন প্রায়ই শুনতে হয় যার উত্তর আসলে একজন সাধারণ বড় ভাইয়ার কাছে থাকে না। এসব প্রশ্ন খুঁজতে হলে খুব আপনজনদের কে বলুন। হ্যাঁ, তবে আমি কিছু পয়েন্ট আপনাকে বলে দিতে পারি.....

  1. আপনি কি চান ? টাকা ? শিক্ষা ? সম্মান ? বিয়ে ? সবগুলি ? কখন চান ? এখনই ?
  2. আপনার পরিবার কি অভাবী ? কত টাকা মাইনে ?
  3. অভাবটা কতখানী ভয়াবহ ? আপনি কত নম্বর জন পরিবারে ?
  4. পড়তে চান নাকি টাকা কামাতে চান ? মাথা কেমন আপনার ?
  5. এখনই সম্মান লাগবে নাকি টাকা লাগবে ?
  6. সম্মান+ টাকা (বিসিএস) দুটোই লাগবে?
  7. বাবা কি করেন? অবসরে কবে যাবেন?
  8. মা কি করেন? তিনি কি একা ? বাসা কোথায় আপনার ?
  9. পরিবারের পরিচিত বা লতায় পাতায় পরিচিত ক্ষমতাধারী নেতা আছে কি ?
  10. গলায় কি প্রেমিকা ঝুলছে ? তার মাথায় কি ইমিডিয়েট বিয়ের তাড়না ?
  11. আপনার দ্বারা কি হবে দুনিয়াতে ? কি কি হতে পারে ? তার মধ্য হতে পরিবারের জন্য কতটুকু স্যাকরিফাইস করতে আপনি প্রস্তুত ?

উপরের বিষয়গুলি হিসেব করে যেকোন জবে ঢুকে যান। আর যদি হালকা ছাড় থাকে উপরের কিছু কিছু বিষয়ে তাহলে ব্যাংক বা বিসিএস এর জন্য পড়তে বসুন। বাবা মাকে জিগ্যেস করে বসবেন কারণ কিছু অসাম বড়ভাইদের মতো ক্যালিবার না থাকলে এসব পেতে বেশ সময় লাগে। আমিতো এখনও তাকে হিংসা করি যিনি ব্যাংক ও বিসিএস একসাথে পান... উফফ সহ্য করা যায় না.... মাইরালবাম... :(

দেখুন মাস্টার্সের পুরো দেড় বছর একটু নিয়ম করে মন দিয়ে পড়লে বিসিএস বা ব্যাংক এ একটা রেজাল্ট আসার আশা আমি করতেই পারি আপনাদের হতে। এসবের ট্রিক্স আপনি নানা গ্রূপে পেয়ে যাবেন। তবে সময় নষ্ট না করে ভাল দেখে একটি কোচিং এ ভর্তি হয়ে যান। সঠিক গাইডলাইনে চলতে পারবেন। এখানে একটাই সূত্রঃ নিয়মিত পড়া; একটাই শব্দঃ অধ্যবসায়। :)

তবে জবের ব্যাপারে বাছবিচার কম করবেন প্রথম প্রথম। বিডি জবসে নিয়মিত ঢুঁ মেরে যেখানে যতটা পারেন সিভি সেন্ড করতে থাকুন। যেখান হতেই ডাক আসুক। যান। ভাইভা দিন। চাকরি করবার ইচ্ছা না থাকলেও ভাইভা দিন। অভিজ্ঞতা হবে। মনে রাখবেন চাকরীতে সিলেক্ট হবার পর চয়েজ করা যে কাজ করবো কি করবো না তা যুক্তি যুক্ত কিন্তু ভাইভাই দিলেন না কিন্তু চুজ করছেন সেটা গাছে কাঁচা বেল ও গোঁফে তেল এর মতো....

তবে কিছু ভয়ানক কড়া উপদেশঃ

  1. কথা রাখতে না পারলে দেবার দরকার নেই... খালি খালি কষ্ট ও দেবদাসের এপিসোড.... সাথে কিছু মহামূল্যবান সময়ও অপচয় হবে জব প্রিপারেশনের বা পড়ার সময়ের.... মনে রাখবেন পার্বতীদের মনোঃকষ্ট ব্যতীত তেমন লস নেই.... কারণ ওদের বিয়ে “হয়” আর আপনি বিয়ে “করবেন”।... আর আপনার লস মাসে পরিবার+মন+কষ্ট+সময়+টাকা+..... আরও দেব?
  2. পরিবারের খুব অভাব থাকলে যেকোন জবে ধাপাধুপ ঢুকে যান তা এমনকি ওষুধ বিক্রির হকারি পেশা হলেও.... এটাই আপনার সংগ্রাম....
  3. টাকা কামানোই আল্টিমেট ধান্দা থাকলে খামাখা সিরিয়াস মাস্টার্স করবার কোন দরকার নেই.... না হবে মাস্টার্সের পড়া, না হবে জবের পড়া.....
  4. আর যদি লক্ষ্য থাকে উচ্চশিক্ষার জন্য অটুট তবে মনে রাখবেন আপনার জীবন শুধুই রিস্ক এ পরিপূর্ণ.... যদিও সব জীবনই রিস্ক এ পরিপূর্ণ.....

বিদেশ আসতে চাইলে নিচের বিষয়গুলি মহাগুরুত্বের সাথে দেখুনঃ

  1. চাকরির বয়স চলে যেতে পারে (যদিও বিদেশে সেশন জট নেই তবে বাংলাদেশ হতে যে সেশন জটটা মাথায় করে আনবেন সেটা কাভার করবে কিনা.... সমাজের চাপে আমিতো এখনও চিন্তা করি যে ঠিক সময়ে পিএইচডি শেষ করলে হাতে ১ বছর বয়স পাবো বিসিএস দেবার.... হাহাহা )
  2. আমি জব পাব ইনশাল্লাহ... এমন কনফিডেন্স থাকলেই তবেই পাসপোর্টটি করে ফেলুন....
  3. যা হয় ভবিষ্যতে হবে, এমন ডেয়ারিং ও ভাগ্যে কি আছে আল্লাহ জানে, আমি শুধু আমার মতো চেষ্টা করে যাব.... এমন বিশ্বাস থাকলে ঝাাঁপান.....
  4. দেশ হতে বিদেশে যাওয়া কঠিন হলেও বিদেশ হতে বিদেশে যাওয়া সহজ... এই বিষয়টা বিবেচনাতে রাখা যেতে পারে....
  5. যদিও এমন কখনও তেমন হয়নি তবুও কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে বিদেশ হতে নানা সমস্যায় পড়তে পারেন। আর্থিক টানা পোড়েন হতে পারে। তেমন সমস্যা মোকাবেলার কলিজা ও মিতব্যায়িতা নিয়ে তবেই যাত্রা.............. :)
  6. একজন গেলে পেছন পেছন পরিবারকে (ভাই,বোন) টানা যাবে এমন মানসিকতা ও নিজ যোগ্যতায় যদি আস্থা থাকে.... শুনেছি ২ বছর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকলে কানাডাতে প্রতিবছরই অনেক অভিবাসী পরিবার সহ নেয়............. জয় বাংলা। :)
  7. আপনার যোগ্যতাই আপনাকে বিভিন্ন দেশের চাকরিতে টেনে নিয়ে যাবে... সেই যোগ্যতাকে পরখ করবার যথেষ্ট সাহস থাকলেই....

.............. চলে আসুন। আসবার চেষ্টা করুন............ :)

বাকিটা আল্লাহ ভরসা।

Comments

Popular posts from this blog

থিসিস (Thesis) লেখার ধাপ সমূহ

  সানি, এত ছোট থিসিস লেখলে হবে না, কমপক্ষে ৫০ পৃষ্ঠা তো করো.... দেশী সুপারভাইজরের মুখে এ কথা শুনে আমি চৌটানায় পড়ি.... পেপার লিখতে হলে যদি ৭-১১ পৃষ্ঠাতেই হয়ে যায় তবে সেই জিনিসের থিসিস কেন বড় করতে হবে বা এত এত এত লিখতে হবে..... মনে হচ্ছিলো জীবনটা থিসিস লিখতে লিখতেই বুড়ো হয়ে যাবে... তবে একথা সত্য যে কপিপেস্ট বিদ্যার জোরে আমাদের অনেকেই থিসিস ৭ দিনে সটান করে ফেলে.... পরে গবেষনাপত্র বা পেপার লিখবার সময় ধরা খায়। তবে থিসিস লেখবার ধাপ, নিয়ম ও কারুকার্য Research Methodology নামক কোর্সে পড়ানো হয়। তবে সব ডিপার্টমেন্টের সবাই তেমন সৌভাগ্যবান নাও হতে পারেন এই কোর্স পাবার..... হাহাহা.... আমরা গবেষণা চাই কিন্তু গবেষণা কি করে করতে, পড়তে, লিখতে, দেখাতে হয় তা শেখাই না.... জয় বাংলা !! আসুন বাংলাতে তা দেখে নেয়া যাক... Title শিরোনাম লেখার এক এক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক এক ডিজাইন ব্যবহার করার হয়। বড়ভাইয়ের থিসিস দেখে কপি মারুন। শেষ। Declaration এখানে আপনি লেখবেন যে এই থিসিস করতে গিয়ে আপনি কোন চুরি করেননি ও কপি করেন নি কাউকে, পরিশ্রম করেছেন.... হালকা নিজের ঢোল পিটিয়ে নিচে সই করুন। এখানে আপনি লেখবেন যে এই থি...

জার্নালের ফী কত করে?

মন দিয়ে পড়তে হবে। ছকটি খেয়াল করে দেখি। জার্নালা দু প্রকারঃ ভাল জার্নাল নিম্নমানের জার্নাল ভাল জার্নাল ৪ প্রকারঃ উচ্চ Q1 মধ্য Q2 মোটামুটি Q3 চলে Q4 এখন প্রতিটা Q1, Q2, Q3 ও Q4 এর ধরণ ভেদে দুটি সুবিধা রয়েছেঃ Open Access মানে হলো পুরো পেপারটা ডাউনলোড করা যায়। Close Access মানে হলো খালি এবস্ট্রাক্ট/অনেক ক্ষেত্রে এটাও দেখতে দেয়না। শুধু শিরোনাম দেখায়। পুরো পেপার নিতে হলে ডলার দেয়া লাগে। বা চুরি করা লাগে। আর এই সবগুলির-ই ছবিতে দেয়া সবকটি ক্যাটাগরি রয়েছে। অর্থাৎ ভাল জার্নালেরও C1, C2, C3, C4 এবং C5 রয়েছে। খারাপেরও C1, C2, C3, C4 এবং C5 রয়েছে। আর এদের মধ্যেঃ C1 ছাপানো ফ্রী এবং পুরো পেপার দেখা যায় কিন্তু কোন টাকা লাগে না। C2 ছাপানো ফ্রী এবং পুরো পেপার দেখা যায় কিন্তু কোন টাকা লাগে না। C3 ছাপানো ফ্রী কিন্তু পুরো পেপার দেখা যায় না। C4 পুরো পেপার দেখা যায়। টাকা দেয়া লাগে। সাধারণত প্রিডেটরী জার্নাল এখানে পড়ে। কিছু ভাল জার্নালও আছে এখানে। C5 পুরো পেপার দেখা যায়। টাকা দেয়া লাগে। সাধারণত প্রিডেটরী জার্নালগুলি এখানে পড়ে। কিছু ভাল জার্নালও আছে এখানে যারা পাবলিকেশন চার্জ নেয় না কিন্তু রঙিন ছবি বা গ...

ইন্টার্নশিপ ভাল নাকি থিসিস বা প্রজেক্ট?

  ওসাম দেশের ওসাম নিয়ম। চাকরী করতে গেলে অভিজ্ঞতা লাগবে কোন প্রতিষ্ঠানের আন্ডারে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা ও পাশ করবার কাঠামো টা তেমন করে গড়া হয় নি তাহলে এক্সপেরিয়েন্স সনদ কি নাযিল হবে আসমান হতে? যে কোন বিষয়ের সিলেবাসটা একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে বছরের পর বছর একই বিষয়ের পড়াশুনো বারবার রিপিট করা হচ্ছে সিলেবাস বড় করবার জন্য অথচ কত নতুন বিষয় বাদ পড়ে যাচ্ছে। সেম শিট দিয়ে টার্মের পর টার্ম কাজ চালানো হচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ের... এভাবেই একই গরুর বিভিন্ন নাম দিয়ে কোর্স রিপিটেশন করে মূল্যবান সময় নষ্ট করা হচ্ছে কিন্তু নতুন বিষয় বা সম্ভাবনাগুলি জানছে না কেউ। যেমন কেউ আমাকে মেরিন ইকোলজি ও মেরিন বায়লজির মধ্যে পার্থক্য দেখাতে পারবেন যে এই এই কারণে এই দুটি টপিককে অালাদা ৩ ক্রেডিটের বিষয়রুপে পড়ানো উচিত ও তাতে এই এই ফায়দা হবে.... যেখানে রিমোট সেন্সিং ও ডাটা প্রসেসিং এর একটি ইন্টার্নশিপ ঢুকিয়ে দিলেই কতই না ফায়দা হবে... ব্যবহারিক শিক্ষা + ওই প্রতিষ্ঠান হতে ৬ মাস কাজ করেছে তার সনদ। হয়ে গেল অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট। যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন বিষয়েই এই কাজ করা সম্ভব। ছাত্রছাত্রীরা চয়েজ করবে যে তারা ইন্ট...