Skip to main content

গবেষণা ছাপাতে এত টাকা কেন লাগে?

গরীব দেশে বসে আপনি কম টাকার মধ্যে ভগিচগি একটা গবেষণা গবেষণা দাঁড় করালেন। কষ্টমষ্ট করে তা লিখেও ফেললেন। এখন সেটা যখনই বিদেশী ভাল জার্নালে ছাপাতে যাবেন তখনই দেখলেন টাকা লাগবে। হাজার হাজার টাকা। এখন জার্নালে ছাপাতে গেলে ভাল ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর যেমন খুজতে হয় তেমনি ডিজিটাল দেশের মানুষ হিসেবে কম টাকার বা ফ্রি জার্নালও খুঁজতে হয় বাধ্য হয়েই....

দেখুন আপনি গবেষণা পাঠাবেন আর তারা ফ্রি তা ছাপাবে ও তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেবে, বছরের পর বছর তা আপনার নামে সংরক্ষণ করবে ফ্রি... এত ঠেকা কেন পড়ছে তাদের? ...... তারমানে রহস্য কোথায়? এটা একটা ব্যবসা..... কিছু জার্নাল ডোনেশন পায়, খুব কম জার্নাল দাতব্য.... আর বাকিরা চলে গবেষকদের টাকায়...... তারমানে গবেষণার যন্ত্র কিনতে টাকা, গবেষণা করতে টাকা, ছাপাতেও টাকা.... টাকাই টাকা..... -_-

এখন ফ্রী ছাপানোর ক্ষেত্রে নানা ফ্যাক্টর এখানে কাজ করে। যেমন আপনি যদি বড় মাপের গবেষক হন বা বড় কোন মাপের গবেষকের অধীনে কাজ করেন আবার কোন বড় গবেষকের নাম আপনার গবেষণাতে ঢুকালে বা জার্নালের এডিটরের সাথে দহরম মহরম বন্ধুত্ব বা পরিচিত থাকলে সহজেই গবেষণা প্রকাশ করা যায়...... ফ্রী.....

আবার আপনি যদি খুব সুন্দর করে অনুনয় বিনয় করে তেল মাখিয়ে সুন্দর ও ভারী বিলাতি শব্দে কভার লেটার লিখে জার্নালটির এডিটরকে পাঠিয়ে পটাতে পারেন তাহিলেও ডিসকাউন্টে বা বিনা খরচে ছাপাতে পারবেন আপনার গো+এষণাটি.....

দেখুন হাজার হাজার জার্নাল রয়েছে। সাধারণত বেশি ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর সম্পন্ন ফ্রি জার্নালগুলি গবেষণা ছাপাতে বেশি সময় নেয়। মাঝে মাঝে ১ বছরও লাগায়। আবার টাকা খরচের জার্নালগুলি খুব দ্রূত ছাপায়.... বা জলদি সাড়া দেয়..... কিছু কিছূ ভূয়া জার্নালও রয়েছে যারা আপনাকে নিজে হতে ইমেইল পাঠিয়ে পটাবে ও নানা অফার দেবে। সুতরাং বুঝে শুনে সাবধান.......

দেশী ফ্রি জার্নালও রয়েছে যা দেশেই জব পেতে গেলে ভাইভা বোর্ড গোনেনা.... :D আর প্রতিবেশী দেশের জার্নাল কিছু আছে যারা কম রুপী বা রুপীয়া রাখে কিন্তু নামকরা দেশগুলি তাও গোণে না.... তাই হালকা পদ্ধতি শিখুন.... ভাল করে গবেষণা করুন, ভালভাবে সাজিয়ে লিখুন ও ভাল জার্নালে সাবমিট করে কভার লেটারে টাকা মাফ চেয়ে মায়াকান্না শুরু করুন...... :’(

গুগলে খুঁজুন। নিজের সাবজেক্ট রিলেটেড জার্নালের নাম, ইমপ্যাক্ট, ছাপানোর সময় ও লিংক নিয়ে একটা টেবিল বানান....

এরপর তা দেখে দেখে শুরু করুন..... সাবমিশন। :)

এ-বাদেও যারা টাকা দিতে পারবে এমন একজন কিংবা ভাগ করে নিয়ে একাধিক অথোরের নামও অনেকে যুক্ত করে। অনেকটা ইনভেস্টরের মতো..... অনেকে নিম্ন ফরম্যাটে টাকা মওকুফ চেয়ে আবেদন করেনঃ

প্রিয় এডিটর,

গরীব দেশের ফান্ডবিহীন গবেষক। ফী মওকুফ না করলে আর উপায় নেই।

ধন্যবাদ।

ভাল গবেষণা + মেলা টাকা = বড় জার্নাল

Scientific Reports (IF 3.9) এ আমাদের পেপার পাবলিশ করতে ফী গুনতে হয়েছে ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা; সাথে ২ বছরের অপেক্ষা....

Aquaculture Reports (IF 2.9) এ আমাদের পেপার পাবলিশ করতে ফী গুনতে হয়েছে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা; সাথে ১ বছরের অপেক্ষা....

Journal of Oceanology and Limnology (IF 0.6) তে আমাদের পেপার পাবলিশ করতে ফী গুনতে হয়েছে ১ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা; সাথে ১.৫ বছরের অপেক্ষা...

এগুলিতে ১ পয়সাও মাফ করেনি। তবেঃ

AACL Bioflox (IF 0.28) ২৪০০০ টাকা চার্জ করার পর হাতে পায়ে ধরলে ৯৬০০ টাকাতে রফাদফা হয়।

আর আবেদন করার পর Journal of Applied Sciences (IF 0.2) ও Journal of Fisheries and Aquatic Science (IF 0.2) পুরো ২৬ হাজার টাকা-ই মাফ পাই। এছাড়াও Journal of Oceanology and Limnology-এ অন্য একটা পেপারের রঙিন ছবিকে সাদাকালো বিশ্রী করে দিতে বাধ্য হই নাহলে টাকা দিতে হবে।

প্রিডেটরি জার্নালগুলির কথা বাদ দেই যাদের নিম্নগুলি ২-৩ হাজার কিংবা হালকা ভাল হলে ৭-৮ হাজার টাকা চার্জ করে।

সুতরাং............. ? 😑 সাবমিশনের আগে এসব দেখে নিবেন।

বিদ্রঃ যদ্রি উপরের সবগুলি চার্জ শ্রদ্ধেয় প্রফেসরদের কাঁধের উপর দিয়ে পার হয়েছে 🙂 যদিও কিছু ভাল জার্নাল রয়েছে যারা পাবলিকেশন ফি একদমই নেয় না ❤

Comments

Popular posts from this blog

থিসিস (Thesis) লেখার ধাপ সমূহ

  সানি, এত ছোট থিসিস লেখলে হবে না, কমপক্ষে ৫০ পৃষ্ঠা তো করো.... দেশী সুপারভাইজরের মুখে এ কথা শুনে আমি চৌটানায় পড়ি.... পেপার লিখতে হলে যদি ৭-১১ পৃষ্ঠাতেই হয়ে যায় তবে সেই জিনিসের থিসিস কেন বড় করতে হবে বা এত এত এত লিখতে হবে..... মনে হচ্ছিলো জীবনটা থিসিস লিখতে লিখতেই বুড়ো হয়ে যাবে... তবে একথা সত্য যে কপিপেস্ট বিদ্যার জোরে আমাদের অনেকেই থিসিস ৭ দিনে সটান করে ফেলে.... পরে গবেষনাপত্র বা পেপার লিখবার সময় ধরা খায়। তবে থিসিস লেখবার ধাপ, নিয়ম ও কারুকার্য Research Methodology নামক কোর্সে পড়ানো হয়। তবে সব ডিপার্টমেন্টের সবাই তেমন সৌভাগ্যবান নাও হতে পারেন এই কোর্স পাবার..... হাহাহা.... আমরা গবেষণা চাই কিন্তু গবেষণা কি করে করতে, পড়তে, লিখতে, দেখাতে হয় তা শেখাই না.... জয় বাংলা !! আসুন বাংলাতে তা দেখে নেয়া যাক... Title শিরোনাম লেখার এক এক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক এক ডিজাইন ব্যবহার করার হয়। বড়ভাইয়ের থিসিস দেখে কপি মারুন। শেষ। Declaration এখানে আপনি লেখবেন যে এই থিসিস করতে গিয়ে আপনি কোন চুরি করেননি ও কপি করেন নি কাউকে, পরিশ্রম করেছেন.... হালকা নিজের ঢোল পিটিয়ে নিচে সই করুন। এখানে আপনি লেখবেন যে এই থি...

জার্নালের ফী কত করে?

মন দিয়ে পড়তে হবে। ছকটি খেয়াল করে দেখি। জার্নালা দু প্রকারঃ ভাল জার্নাল নিম্নমানের জার্নাল ভাল জার্নাল ৪ প্রকারঃ উচ্চ Q1 মধ্য Q2 মোটামুটি Q3 চলে Q4 এখন প্রতিটা Q1, Q2, Q3 ও Q4 এর ধরণ ভেদে দুটি সুবিধা রয়েছেঃ Open Access মানে হলো পুরো পেপারটা ডাউনলোড করা যায়। Close Access মানে হলো খালি এবস্ট্রাক্ট/অনেক ক্ষেত্রে এটাও দেখতে দেয়না। শুধু শিরোনাম দেখায়। পুরো পেপার নিতে হলে ডলার দেয়া লাগে। বা চুরি করা লাগে। আর এই সবগুলির-ই ছবিতে দেয়া সবকটি ক্যাটাগরি রয়েছে। অর্থাৎ ভাল জার্নালেরও C1, C2, C3, C4 এবং C5 রয়েছে। খারাপেরও C1, C2, C3, C4 এবং C5 রয়েছে। আর এদের মধ্যেঃ C1 ছাপানো ফ্রী এবং পুরো পেপার দেখা যায় কিন্তু কোন টাকা লাগে না। C2 ছাপানো ফ্রী এবং পুরো পেপার দেখা যায় কিন্তু কোন টাকা লাগে না। C3 ছাপানো ফ্রী কিন্তু পুরো পেপার দেখা যায় না। C4 পুরো পেপার দেখা যায়। টাকা দেয়া লাগে। সাধারণত প্রিডেটরী জার্নাল এখানে পড়ে। কিছু ভাল জার্নালও আছে এখানে। C5 পুরো পেপার দেখা যায়। টাকা দেয়া লাগে। সাধারণত প্রিডেটরী জার্নালগুলি এখানে পড়ে। কিছু ভাল জার্নালও আছে এখানে যারা পাবলিকেশন চার্জ নেয় না কিন্তু রঙিন ছবি বা গ...

ইন্টার্নশিপ ভাল নাকি থিসিস বা প্রজেক্ট?

  ওসাম দেশের ওসাম নিয়ম। চাকরী করতে গেলে অভিজ্ঞতা লাগবে কোন প্রতিষ্ঠানের আন্ডারে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা ও পাশ করবার কাঠামো টা তেমন করে গড়া হয় নি তাহলে এক্সপেরিয়েন্স সনদ কি নাযিল হবে আসমান হতে? যে কোন বিষয়ের সিলেবাসটা একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে বছরের পর বছর একই বিষয়ের পড়াশুনো বারবার রিপিট করা হচ্ছে সিলেবাস বড় করবার জন্য অথচ কত নতুন বিষয় বাদ পড়ে যাচ্ছে। সেম শিট দিয়ে টার্মের পর টার্ম কাজ চালানো হচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ের... এভাবেই একই গরুর বিভিন্ন নাম দিয়ে কোর্স রিপিটেশন করে মূল্যবান সময় নষ্ট করা হচ্ছে কিন্তু নতুন বিষয় বা সম্ভাবনাগুলি জানছে না কেউ। যেমন কেউ আমাকে মেরিন ইকোলজি ও মেরিন বায়লজির মধ্যে পার্থক্য দেখাতে পারবেন যে এই এই কারণে এই দুটি টপিককে অালাদা ৩ ক্রেডিটের বিষয়রুপে পড়ানো উচিত ও তাতে এই এই ফায়দা হবে.... যেখানে রিমোট সেন্সিং ও ডাটা প্রসেসিং এর একটি ইন্টার্নশিপ ঢুকিয়ে দিলেই কতই না ফায়দা হবে... ব্যবহারিক শিক্ষা + ওই প্রতিষ্ঠান হতে ৬ মাস কাজ করেছে তার সনদ। হয়ে গেল অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট। যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন বিষয়েই এই কাজ করা সম্ভব। ছাত্রছাত্রীরা চয়েজ করবে যে তারা ইন্ট...