Skip to main content

বাইরে স্কলারশিপের পাশাপাশি জব করপেন!

 জ্বী। এমনটিই বলে এজেন্সিগুলি লোভ দেখায় স্কলারশিপের। যা অনেকটা সত্য..... আবার অনেকটা মিথ্যা। আবার বেশিরভাগ সত্য কিন্তু অবৈধ... কিভাবে? সেবিষয়েই আলোচনা করবো। তবে তার আগে আপনাদের কাছে আমার কিছু প্রশ্ন আছে। তা হলোঃ

  1. জব করার সামর্থ্য থাকলে তো দেশেই করতে পারতেন নাকি ?
  2. নাকি ভাবছেন বিদেশে জব পাওয়া আপনার অনুন্নত দেশ হতে সহজ ? যেখানে পিছিয়ে পড়া দেশগুলোতেই নতুন উদ্যোগের সুযোগ থাকে বেশি... সুযোগ থাকে নতুন ব্যবসা করার....
  3. বিদেশে কি বিদেশী আর নেই? তারাও কি জব খুঁজবে না? তাহলে আপনার কি আছে?
  4. বিদেশে পেঁয়াজ কাটলেও চলবে আপনার? OC = ওনিওন কাটার, DC= ড্রেন ক্লিনার?
  5. স্কলারশিপে আপনাকে টাকা দেয়া হবে পড়াশুনা করবার জন্য মাসে মাসে, তার পাশাপাশি আপনি আরও বেশি খেতে চাচ্ছেন? জীভ বেশি লম্বা হয়ে গেল না? তাহলে আধখামচা পড়াশুনার দরকার কি? ছাপোষা জবে ঢুকলেই তো হয় বা ১ বছর ঘরে বসে জব সল্যুশন খতম?

দেখুন জীবন কঠিন, বিদেশ আরও কঠিন.... তবে স্কিলফুল লোকদের জন্য নয়। যাদের নতুনকে জানার ও গ্রহন করার এবং তার মধ্যে বেঁচে থাকবার প্রয়াস আছে তাদের জন্য প্রবাসী জীবন সহজ.... তাই আগে নিজেকে স্কিলফুল করুন। বিদেশে ফুল টাইম বা পার্ট টাইম জব করবার ব্যাপারটি নানা গুনের উপর নির্ভর করে যেমনঃ

  1. আপনি সেই দেশের ভাষা কতটা পারেন....
  2. আপনি ইংরেজি কতটা পারেন তার বিশ্ব-স্বীকৃত সনদ আছে কিনা....
  3. আপনার ইংরেজি উচ্চারণ কি ভাল নাকি মুরাদ টাকলার মতো ....
  4. আপনার স্কলারশিপের দলিলে জব করবার জন্য ছাড় বা অনুমতি আছে কিনা, থাকলে কতঘন্টার ছাড় আছে....
  5. আপনার বিশ্ববিদ্যালয় হতে অনুমতি আছে কিনা....
  6. আপনার প্রফেসর বা সুপারভাইজর রাজি কিনা....
  7. আপনি পড়ার ফাঁকে যথেষ্ট সময় পার কিনা..... কারণ রেজাল্ট ভাল না হলে মাঝে মাঝে স্কলারশিপ বাতিলও হয়ে যায়....
  8. আপনার দেশ হতে ওয়ার্ক পারমিট নেয়া আছে কিনা.... (টুকটাক কাজ করতে গেলে অবশ্য এটা লাগে না... )

দেখুন আমি কিছু বাঙালী ছাত্রদেরকে চিনি যারা ছুটিতে বাঙালী হোটেলে রান্নার কাজ করে, শুনেছি কিছু আফ্রিকান মদের বারে বার-ডান্সার হিসেবে কাজ করে, কিছু দেশি মেয়েকে চিনি যারা স্কুলে শিক্ষক, ইংরেজি, খন্ডকালীন..... কিছুকে চিনি যারা কিছু করে না.... আর কিছুকে চিনি যাদের পড়ার ফাঁকে দম ফেলার সময় নেই..... তাহলে ? সবসময় মনে রাখবেনঃ

  1. অবৈধভাবে জব করলে ধরা পড়লে স্কলারশিপ বাতিল, জরিমানা, জেল, দেশে ফেরতসহ পরিবারের নাকা কেটে আসবেন আর কি, সাথে দেশের নাকটাও বোনাসে কাটা যাবে....
  2. ড্রিংক করাবস্থায় রাস্তাঘাটে মাতলামি করতে দেখলে নানা ওয়ার্নিং ও নানা সুযোগ হারাবেন রেডমার্ক হয়ে.....
  3. ছেলে-মেয়েঘটিত ব্যাপারে ধরা খেলে কি হবে তা পাবলিকলি বলতে চাচ্ছিনা....
  4. পড়তে আসছেন, পড়ুন ভালভাবে... কপালে যখন জব আছে, চলে আসবে বা হয়ে যাবে.... সময় মতো.... আপনি আপনার মতো সঠিক ও বৈধপথে চেষ্টা করুন....
  5. তবে হ্যাঁ... কিছু কিছু দেশ আছে বা কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আছে তারা জবের ব্যাপারে অবাধ স্বাধীনতা দিয়ে থাকে যা বিদেশে যাবার আগে ভালভাবে কনফার্ম ও সেখানে কয়েকজন বাঙালীকে আলাদা আলাদা করে জিগ্যেস করে নিশ্চিত হবে হবে.....

নিজেকে স্কিলফুল করুন..... চাকরি হয়ে যাবে.... বাংলাদেশী এক জুনিয়রকে চিনি যে একটা বিশ্ববিদ্যারয়কে নিয়ে নিজ উদ্যোগে একটা মোবাইল এপ বানিয়েছিল যা তথাকথিত তেলবাজদের সমাজে জনপ্রিয়তা পায়নি কিন্তু সেই এপ ভাইভাতে দেখিয়েই ছেলেটির ভাল একটা চাকরি হয়েছিল। তাই হতাশ হবেন না।

নিজেকে গড়তে থাকুন জ্ঞান দিয়ে, জব আসবে.... নিজেকে ভরতে থাকুন প্রজ্ঞা দিয়ে, জয় আসবে.....

:)

Comments

Popular posts from this blog

থিসিস (Thesis) লেখার ধাপ সমূহ

  সানি, এত ছোট থিসিস লেখলে হবে না, কমপক্ষে ৫০ পৃষ্ঠা তো করো.... দেশী সুপারভাইজরের মুখে এ কথা শুনে আমি চৌটানায় পড়ি.... পেপার লিখতে হলে যদি ৭-১১ পৃষ্ঠাতেই হয়ে যায় তবে সেই জিনিসের থিসিস কেন বড় করতে হবে বা এত এত এত লিখতে হবে..... মনে হচ্ছিলো জীবনটা থিসিস লিখতে লিখতেই বুড়ো হয়ে যাবে... তবে একথা সত্য যে কপিপেস্ট বিদ্যার জোরে আমাদের অনেকেই থিসিস ৭ দিনে সটান করে ফেলে.... পরে গবেষনাপত্র বা পেপার লিখবার সময় ধরা খায়। তবে থিসিস লেখবার ধাপ, নিয়ম ও কারুকার্য Research Methodology নামক কোর্সে পড়ানো হয়। তবে সব ডিপার্টমেন্টের সবাই তেমন সৌভাগ্যবান নাও হতে পারেন এই কোর্স পাবার..... হাহাহা.... আমরা গবেষণা চাই কিন্তু গবেষণা কি করে করতে, পড়তে, লিখতে, দেখাতে হয় তা শেখাই না.... জয় বাংলা !! আসুন বাংলাতে তা দেখে নেয়া যাক... Title শিরোনাম লেখার এক এক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক এক ডিজাইন ব্যবহার করার হয়। বড়ভাইয়ের থিসিস দেখে কপি মারুন। শেষ। Declaration এখানে আপনি লেখবেন যে এই থিসিস করতে গিয়ে আপনি কোন চুরি করেননি ও কপি করেন নি কাউকে, পরিশ্রম করেছেন.... হালকা নিজের ঢোল পিটিয়ে নিচে সই করুন। এখানে আপনি লেখবেন যে এই থি...

জার্নালের ফী কত করে?

মন দিয়ে পড়তে হবে। ছকটি খেয়াল করে দেখি। জার্নালা দু প্রকারঃ ভাল জার্নাল নিম্নমানের জার্নাল ভাল জার্নাল ৪ প্রকারঃ উচ্চ Q1 মধ্য Q2 মোটামুটি Q3 চলে Q4 এখন প্রতিটা Q1, Q2, Q3 ও Q4 এর ধরণ ভেদে দুটি সুবিধা রয়েছেঃ Open Access মানে হলো পুরো পেপারটা ডাউনলোড করা যায়। Close Access মানে হলো খালি এবস্ট্রাক্ট/অনেক ক্ষেত্রে এটাও দেখতে দেয়না। শুধু শিরোনাম দেখায়। পুরো পেপার নিতে হলে ডলার দেয়া লাগে। বা চুরি করা লাগে। আর এই সবগুলির-ই ছবিতে দেয়া সবকটি ক্যাটাগরি রয়েছে। অর্থাৎ ভাল জার্নালেরও C1, C2, C3, C4 এবং C5 রয়েছে। খারাপেরও C1, C2, C3, C4 এবং C5 রয়েছে। আর এদের মধ্যেঃ C1 ছাপানো ফ্রী এবং পুরো পেপার দেখা যায় কিন্তু কোন টাকা লাগে না। C2 ছাপানো ফ্রী এবং পুরো পেপার দেখা যায় কিন্তু কোন টাকা লাগে না। C3 ছাপানো ফ্রী কিন্তু পুরো পেপার দেখা যায় না। C4 পুরো পেপার দেখা যায়। টাকা দেয়া লাগে। সাধারণত প্রিডেটরী জার্নাল এখানে পড়ে। কিছু ভাল জার্নালও আছে এখানে। C5 পুরো পেপার দেখা যায়। টাকা দেয়া লাগে। সাধারণত প্রিডেটরী জার্নালগুলি এখানে পড়ে। কিছু ভাল জার্নালও আছে এখানে যারা পাবলিকেশন চার্জ নেয় না কিন্তু রঙিন ছবি বা গ...

ইন্টার্নশিপ ভাল নাকি থিসিস বা প্রজেক্ট?

  ওসাম দেশের ওসাম নিয়ম। চাকরী করতে গেলে অভিজ্ঞতা লাগবে কোন প্রতিষ্ঠানের আন্ডারে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা ও পাশ করবার কাঠামো টা তেমন করে গড়া হয় নি তাহলে এক্সপেরিয়েন্স সনদ কি নাযিল হবে আসমান হতে? যে কোন বিষয়ের সিলেবাসটা একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে বছরের পর বছর একই বিষয়ের পড়াশুনো বারবার রিপিট করা হচ্ছে সিলেবাস বড় করবার জন্য অথচ কত নতুন বিষয় বাদ পড়ে যাচ্ছে। সেম শিট দিয়ে টার্মের পর টার্ম কাজ চালানো হচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ের... এভাবেই একই গরুর বিভিন্ন নাম দিয়ে কোর্স রিপিটেশন করে মূল্যবান সময় নষ্ট করা হচ্ছে কিন্তু নতুন বিষয় বা সম্ভাবনাগুলি জানছে না কেউ। যেমন কেউ আমাকে মেরিন ইকোলজি ও মেরিন বায়লজির মধ্যে পার্থক্য দেখাতে পারবেন যে এই এই কারণে এই দুটি টপিককে অালাদা ৩ ক্রেডিটের বিষয়রুপে পড়ানো উচিত ও তাতে এই এই ফায়দা হবে.... যেখানে রিমোট সেন্সিং ও ডাটা প্রসেসিং এর একটি ইন্টার্নশিপ ঢুকিয়ে দিলেই কতই না ফায়দা হবে... ব্যবহারিক শিক্ষা + ওই প্রতিষ্ঠান হতে ৬ মাস কাজ করেছে তার সনদ। হয়ে গেল অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট। যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন বিষয়েই এই কাজ করা সম্ভব। ছাত্রছাত্রীরা চয়েজ করবে যে তারা ইন্ট...