নিচের ছবিটা দিয়েই শুরু করা যাক? নাকি?

সম্প্রতি আমার এক অসম্ভব সাধাসিধা শ্রদ্ধেয় স্যার নতুন দুটি প্রজাতি সনাক্ত করবার সম্মানে ভূষিত হয়েছেন যার দুটি প্রাণীই বাংলাদেশের। কিন্তু গবেষণা গ্রন্থে স্যারের নাম প্রথমে নেই। প্রথমে অন্য কোন বিজ্ঞানীর নাম যাঁর কাছে আছে ২০-২৫ লাখ টাকা দামের প্রজাতি সনাক্তকরণ যন্ত্র। এখন স্যার যদি বিদেশ থাকতেন, যদি ওই ল্যাবে কাজ করতেন তবে?
পেপারে নামও প্রথমে থাকতো, দেশী পত্রিকা বাংলাদেশী বংশোদভুত বিজ্ঞানী শব্দটা দিয়ে কাজ চালাতো। এবং পেপারে নিউজটা আসতে সপ্তাখানেক দেরীও হতো না এত এত সাং(!)বাদিক থাকা সত্ত্বেও। তাহলে? একজন মানুষের যদি কোটি টাকা দামের বৈজ্ঞানিক যন্ত্র নিয়ে কাজ করবার যোগ্যতা থাকে তবে তা ছেড়ে দেশে বসে থেকে কি তিনি বিশ্বকে বঞ্চিত করছেন না? বিশ্বকে দেয়া মানেও তো দেশকে দেয়া নাকি?
হয়তো কিছু মানুষ প্রচন্ড ত্যাগী হন। কিছু মানুষ নিজ দেশে কাজ করতে ভালবাসেন। তাহলে তাদের ভালবাসাকে গ্রহণ করতে কেন ব্যর্থ হচ্ছি আমরা? আর এ ব্যর্থতা সকলের.... স্পষ্ট করবো?
- সরকার দিচ্ছেন না সঠিক যন্ত্র
- দেশী কতিপয় পদাধিষ্ট Sheক্ষক জ্বলছেন হিংসাতে
- ছাত্রছাত্রী হতে ৫০% শেখার সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে না
এমনকি পোস্ট শেয়ারও করে না সকলে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেরা এসে সেসব পোস্টে ট্যাগ দেয় আমাদের। শেইম। কেন? মেগাবাইট কম? নাকি মানসিকতা? ব্রাজেন্টিনার মতো ফ্লাড খায়না এসব পোস্ট। কেন? এত অলস কেন আমরা? কেন বানাচ্ছিনা ভিডিও প্রতিবেদন? ছাড়ছিনা ইউটিউবে? অথচ ছাত্রছাত্রী নিয়ে নাটক মডেলিং এর অগুনিত ভিডিও বানানো হয়ে গেসে হুদাই, নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্বকে উপস্থাপনে হচ্ছে গড়িমিসি।
সাথে বিদ্যুৎহীনতা, জ্যাম, স্লো-নেট, রাস্তায় গলাপানি, রমজানে খাদ্যমূল্য ডাকাতি, খালি খালি মারপিট..................ইত্যাদি। পেপারের হেডলাইন অন্যদেশের প্রিন্সের বিয়ে। জয় বাংলা।
আবার এসব কিছু-কে মেনে নিলেও একজন ডায়নামিক শিক্ষক সিলেবাসের বাইরে কিছু শেখানোর সময়, সুযোগ ও অনুমতি :D পান না, একজন শিক্ষক নতুন কোন টেকনিকে শেখানো শুরু করলেই ছাত্রছাত্রীর বিরক্তির কারণ হয়ে যান, যেন শিক্ষার্থীরাও অতিষ্ট, কেন? সবকিছুতেই মজা করে পড়াতে হবে? একটু কম মজা হলে সমস্যা?..... হয়না জবফেস্ট, অনলি বিসিএস ইজ রিয়েল...... আবার সেখানেও দলাদলি।
আর আমার শিক্ষা ব্যবস্থা। ৬ মাসে টার্ম ৫ টা সাবজেক্ট। প্রতিদিন ক্লাস। তিনটা করে ১৫টা টেস্ট, ৫টা ফাইনাল পরীক্ষা আর মাত্র ২-৩টা প্রাকটিক্যাল? সেই প্রাকটিক্যাল খাতা লিখতেও শিক্ষার্থীদের শ্লেষ্মার শেষ নেই..... কেন?
নিজের মতো গবেষণা করা ত্যাগ করে একজন শিক্ষক না পারেন শিক্ষার্থীদের নতুন টেকনিক শেখাতে, না শিক্ষার্থীরা পারে তা গ্রহণ করতে, সাধের কিছু সিনিওরও আছেন যারা জ্ঞান নিয়ে কবরে চলে যাবেন তবুও বোমা মারলেও পেট হতে তথ্য বের হয় না..... কেন?
দেখুন মানুষের ইচ্ছাশক্তির মালিক সে নিজে। সেই ইচ্ছাশক্তি যখন সে বিসর্জন দেয় তখন সে হয়ে পড়ে গাধা। গাধাকে পিটিয়ে ঘোড়া বানানো যায় না। কিন্তু ঠেলাগাড়ীতে লাগানো যায়। তার জন্য রাখালই যথেষ্ট। গবেষকের দরকার নেই। গাধার পা বাঁচানোর জন্য আদর করে জুতো পরাতে গেলে গাধা তো এর মর্ম বুঝবেই না বরং পেছনের পা দিয়ে গবেষককে জোড়া লাথিও কষতে পারে। সুতরাং....
আমার পিএইচডির পেছনে চায়না সরকারের ৩ বছরে মোট খরচ অানুমনিক ১০ লাখ টাকা। আমি কি আর কিছু বলবো? আচ্ছা চায়নার কি ঠেকা পড়ছে? আমারে না নিলে ওদের দেশ চলতো না? কেন নিল? টাকা পয়সা তো দূরের ব্যাপার, সম্মানও দিতেও আমাদের মেগাবাইটে টান পড়ে। যেদিন দেশ হতে বের হয়েছি, BD Fishpedia, Planktopedia, Fish Feed Calculators, Career Letters, ChAir CooL এসব নিজে যোগাড়যন্ত করে বানাতে পেরেছি। কেন দেশে থাকতে এসব করতে পারিনি জানেন?
কে যেন বলেছিল, আমাদের জাতীয় খেলা কাবাডির সাথে আমাদের চারিত্রিক মিল রয়েছে। কেউ উপরে উঠতে গেলে আমরা পা ধরে টেনে তাকে নামিয়ে ফেলি। দেখুন আমি এখনও চুলটাও ছিঁড়ে বোঝা বাঁধতে পারিনি তবুও ভয় করে এসব দেখলে। তাই আমাকে করা “ভাইয়া, দেশে কবে ফিরবেন” তার উত্তর সিম্পল।
হে বিদ্যার্থী, সঠিক ইচ্ছাশক্তির মালিক হোন আবার। জ্বলে উঠুন। শিখতে উষ্মা করবেন না। যোগ্যতাকে পরিপূর্ণ সম্মান দিন। তবেই...........
তার আগ পর্যন্ত কপাল যেদিকে টানে... বয়ে যাব।
Comments
Post a Comment