Skip to main content

চীনের লাখ টাকার CSC স্কলারশিপটি...

 আমার এই লেখাটি তাদের উদ্দেশ্যে যারা চীনে পড়তে বা চীনের পড়ালেখা সম্ভন্ধে জানতে আগ্রহী। চীন নামটি বললেই আমাদের দেশের মানুষের প্রথম যে ধারনা হয় সেটা হচ্ছে সস্তা ও কম টেকশয়ী জিনিস এর দেশ । যার ফলে পড়ালেখার জন্য যারা চীনে আসে, তাদের চীনে আসার আগে ও পরে আত্নীয়-স্বজন,বন্ধুবান্ধবীর কাছে একটু খোচা মারা টাইপের কথা শুনতে হয়। আমার জানামতে ১৯৮০/৯০ এর দিকে ধীরে ধীরে বাংলাদেশ ত্থেকে চীনে ছাত্র আসা শুরু হয়। যদিও সে সময় সংখ্যা খুবই নগন্য ছিল। প্রতি বছর এক বা দুইজন ,কোনো বছর এক জন ও হতো না। তো এই ভাবে ২০০০ সালের দিকে ছাত্র আসার সংখ্যা আরো একটু বাড়লো তখন প্রতি বচর ৫/৬ জন আসতো।২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে আসা ছাত্রের সংখ্যা ক্রমান্ময়ে বাড়তে থাকে।

২০১৫ সাল থেকে চীনে বাংলাদেশী ছাত্র আসার হার অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশী এবং দিনে দিনে চীন বাংলাদেশী ছাত্রদের পড়ালেখার জন্য জনপ্রিয় স্থানে পরিণত হচ্ছে। প্রথমদিকে বাংলাদেশী ছাত্র রা শুধু চীন সরকারের শিক্ষা বৃত্তি (ফুল ফ্রি স্কলারশিপ) নিয়ে পড়ালেখার জন্য চীনে আসতো কিন্তু ইদানিং নিজ খরচ বা আংশিক বৃত্তি নিয়ে আসা ছাত্রের সংখ্যা ও নেহাত কম নয়। এর মূল কারন চীনের শিক্ষা ব্যাবস্থার অভাবনীয় উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে বিশ্বমানের শিক্ষা ও শিক্ষার সুন্দর পরিবেশে। বিশেষ করে সারাবিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাংকিং উর্ধমুখী । বর্তমান রাংকিং অনুযায়ি বিশ্বের সেরা ১০০ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে চীনের ৭/৮ টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

আমাদের দেশ থেকে যারা পড়ালেখার জন্য চীনে আসে তাদের শতকরা ৫০ ভাগই ইঞ্জিনিয়ারিং, ৩০ ভাগ মেডিকেল, ১৫ ভাগ কলা (ভাষা-সাহিত্য বা অন্যান্য), এবং সর্বশেষ ৫ ভাগ ব্যাবসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পড়তে আসে।তো এখন ভূমিকা ছেড়ে বর্ণনায় আসা যাক। আমি এখানে যারা চাইনাতে ব্যাচেলর করতে আসতে ইচ্ছুক তাদের জন্য লিখছি যদিও কিছু যায়গা ছাড়া মাস্টার্স ও পি এইচ ডি এর প্রক্রিয়াও প্রায় একই।

প্রথমে আসি, চায়নাতে পড়ালেখার জন্য কয়ভাবে আসা যায় ??

             চাইনাতে পড়তে আসার পদ্ধতি অনেক গুলা তার মধ্যে সবচেয়ে কঠিন,সুযোগ-সুবিধা বেশী ও সম্মান জনক পদ্ধতি হচ্ছে চাইনীজ সরাকারের বৃত্তি( সিএসসি স্কলারশিপ) http://www.campuschina.org/ । এই বৃত্তি নিয়ে যারা চীনে ব্যাচেলর করতে আসে তাদের সবাই কে ই চাইনীজ মিডিয়ামে পড়ালেখা করতে হয়। চীনে আসার পর প্রথম ১ বছরের ভাষা শিক্ষা কোর্স ও পরের ৪ বছর ব্যাচেলর পড়বেন,সর্বমোট ৫ বছর তবে শর্তসাপেক্ষে ১ বছর বাড়ানো যায়। 

সিএসসি স্কলারশিপ এ আবেদন এর জন্য দুইটা পদ্ধতি আছে তার প্রথম টি হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার এর শিক্ষা মন্ত্রনালয় এর মাধ্যমেঃ

সিএসসি এম্বাসী/শিক্ষামন্ত্রনালয় ট্রাক  এর সুবিধা সমূহঃ১.টিউশন ফি ফ্রি২.ডর্মিটরি ফ্রি ৩.মেডিকেল ইন্সুরেন্স (শর্তসাপেক্ষে চিকিৎসা ফ্রি) ৪.প্রতি মাসে ২৫০০ আর এম বি (৩৩-৩৫ হাজার টাকা)এটা খাওয়া,হাত খরচ ও শিক্ষা সামগ্রী কেনা 
বাবদ,আপনি চাইলে সেভ করতে পারবেন । ৫.চীনে প্রথম বার যাওয়ার সময় একটা অন ওয়ে টিকিট এবং গ্রাজুয়েশন শেষে দেশে ফেরার সময় একটা
ফিরতি টিকিট।

এটার জন্য আবেদন করতে বাংলাদেশ সরকার এর শিক্ষা মন্ত্রনালয় এর ওয়েবসাইট http://www.shed.gov.bd/site/view/scholarship এ প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সার্কুলার হয় ,এই সার্কুলার অনুযায়ি প্রথমে শিক্ষা মন্ত্রনালয় এ আবেদন করতে হয়। শিক্ষা মন্ত্রনালয় এস,এস,সি ও এইচ,এস,সি এর ফলাফল (মিনিমাম দুইটা জিপিএ ৫,অনেকের দুইটা গোল্ডেন থেকেও হয় না) অনুযায়ি একটি সংক্ষিপ্ত লিস্ট করে ফলাফল প্রকাশ করে।এর পরে কিছু প্রক্রিয়া আছে যেগুলা সার্কুলারে বিস্তারিত লেখা থাকে।এই লিস্টে যাদের নাম থাকে তাদের এম্বাসী তে একটা ভাইবা হয় এবং এখন পর্যন্ত ভাইবা ই সর্বশেষ ধাপ।এখানে স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনার এইস,এস,সি এর ফলাফল অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ এছাড়া ভাল কোনো শিক্ষকের প্রসংসা পত্র, কো-কারিকুলার এক্টিভিটিজ এবং চাইনিজ জানা থাকলে আপনি সেটাতে বেনিফিট পেতে পারেন। এখানে ভাইবা ও একটা মূখ্য ভূমিকা পালন করে। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফল হতে একটু দেরী হয় ,সাধারনত জুলাই এর শেষ সপ্তাহ বা আগস্ট এর প্রথম সপ্তাহে ফলাফল প্রকাশ হয়ে থাকে। তো এই চূড়ান্ত লিস্টে যাদের নাম থাকে তাদের সাধারনত এম্বাসী তে যেয়ে ভার্সিটির পেপারস ও JW201ফর্ম গ্রহন করতে হয়, এসব পেপারস নিয়ে ভিসার আবেদন করতে হয় এবং ভিসা হয়ে গেলে এম্বাসী থেকে একটি চাইনা ইস্টার্ন এয়ারওয়েজ এর ফ্রি টিকিট দিয়ে দেবে আপনাকে।ফ্লাইটের এক সপ্তাহ আগে একটা ফেয়ারওয়েল হবে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এ,সেখানে চীন বাংলাদেশ সম্পর্কের সাথে জড়িত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সহ সবার সাথে দেখা হবে যারা আপনার সাথে চীনে আসবে পড়ার জন্য। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে সেপ্টেম্বর এর ফার্স্ট উইক এ আপনি চীনে এবংদ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে আপনার ১ বছরের চীনা ভাষা শিক্ষা কোর্স ( চাইনীজ এর পাশাপাশি যার যার মেজর অনুযায়ী গণিত,পদার্থ,রসায়ন,ব্যাবসা শিক্ষা) শুরু হয়ে যাবে। এখন আসি সিএসসি স্কলারশিপ এ আবেদনের দ্বিতীয় পদ্ধতিতেঃ

সিএসসি বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাক  এর সুবিধা সমূহঃ১.টিউশন ফি ফ্রি২.ডর্মিটরি ফ্রি ৩.মেডিকেল ইন্সুরেন্স (শর্তসাপেক্ষে চিকিৎসা ফ্রি) ৪.প্রতি মাসে ২৫০০ আর এম বি(৩৩-৩৫ হাজার টাকা) এটা খাওয়া,হাত খরচ ও শিক্ষা সামগ্রী কেনা 
বাবদ,আপনি চাইলে সেভ করতে পারবেন । এম্বাসী ও বিশ্ববিদ্যলয়ের মাধ্যমে আবেদন এর ফলে প্রাপ্ত স্কলারশিপ এর সুযোগ সুবিধা একই তবে বিশ্ববিদ্যালয় এর মাধ্যমে আবেদন করলে প্লেনের টিকিট টি পাবেন না,শুধু এতটুকু ই।

এই প্রক্রিয়ায় আপনাকে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় এর ওয়েসাইটে আবেদন করতে হবে।এর জন্য আপনাকে নিজে নিজে একটু পরিশ্রম করতে হবে। ইন্টারনেট এর এই যুগে গুগল,ইউটিউব,ফেসবুকে এ ব্যাপারে সার্স দিলেই হাজার হাজার তথ্য পাবেন।তো আপনারা যারা এই মাধ্যমে আবেদন করতে চান তারা নভেম্বর- ডিসেম্বর থেকেই বিভিন্ন ভার্সিটির ওয়েব সাইটে তথ্য খোজা শুরু করুন। বিভিন্ন ভার্সিটির ওয়েব সাইট,সেখানে আবেদনের প্রক্রিয়া,তাদের রিকোয়ারমেন্ট দেখলে আপনি নিজেই সব কিছু বুঝে যাবেন। চীনের অধিকাংশ ভালমানের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে সিএসসি বৃত্তির জন্য আবেদন করা যায়। তো নিজের পছন্দের ভার্সিটি আর সাবজেক্ট মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েব সাইটের সার্কুলার অনুযায়ি সময় মত আবেদন করে ফেলুন কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয় এ। এখানে ছাত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ও আপনার এইস,এস,সি এর ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ এছাড়া ভাল কোনো শিক্ষকের প্রসংসা পত্র, কো-কারিকুলার এক্টিভিটিজ এবং চাইনীজ জানা থাকলে আপনি সেটাতে বেনিফিট পেতে পারেন। সাধারনত এপ্রিল পর্যন্ত অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় এ আবেদন করা যায় ,তবে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়সীমা এক না । এজন্য আপনি যেই বিশ্ববিদ্যালয় এ আবেদন করতে চান সেখানের সময়সীমা অনুসরন করুন।বিশ্ববিদ্যালয় খোজার ক্ষেত্রে https://www.topuniversities.com/universities/region/asia/country/china অথবা http://www.campuschina.org/ এই ওয়েব সাইটের সহায়তা নিতে পারেন।এখানের ফলাফল ও জুলাই থেকে আগস্ট এর প্রথম সপ্তাহের মধ্যে হয়ে যায় ,আপনি যদি ভার্সিটির সকল রিকোয়ারমেন্ট অনুসরন করে চূড়ান্ত ভাবে নির্বাচিত হন তাহলে ভার্সিটি আপনাকে মেইল করে ফলাফল জানিয়ে দিবে এবং ডাক অথবা কুরিয়ার যোগে আপনার সব পেপারস পাঠিয়ে দিবে,এই পেপারস গুলো নিয়ে ভিসার আবেদন করবেন এবং ভিসা হয়ে গেলে সেপ্টেম্বর এর প্রথম সপ্তাহে নিজ টাকায় প্লেনের টিকিট কেটে চীনে চলে আসবেন ,দ্বিতীয় সপ্তাহে আপনার ১ বছরের চীনা ভাষা শিক্ষা কোর্স ( চাইনীজ এর পাশাপাশি যার যার মেজর অনুযায়ী গণিত,পদার্থ,রসায়ন,ব্যাবসা শিক্ষা) শুরু হয়ে যাবে।

উপরের এই সিএসসি স্কলারশিপ পেতে যারা অতীব আগ্রহী আপনারা আস্তে আস্তে চাইনীজ ভাষা শেখা শুরু করতে পারেন ,এটা আপনার স্কলারশিপ পাওয়া ও আপনার ব্যাচেলর কোর্স এর সময় অনেক সাহায্য করবে। আর চাইনীজ ভাষা পৃথিবীর অন্যতম কঠিন ও জটিল একটি ভাষা,আমাদের ভাষা সংস্কৃতির সাথে মিল না থাকায় এই ভাষা আমাদের জন্য আয়ত্ব করাও একটু কঠিন।এজন্য ধৈর্য,পরীশ্রমী আর প্রচন্ড ইচ্ছা না থাকলে এখানে আপনার মানিয়ে নেওয়া কস্ট কর হবে। ফল ভাল পেতে পরিশ্রম একটু বেশী করা লাগে,তো পরিশ্রম করার জন্য প্রস্তুত করুন নিজেকে।

সিএসসি ছাড়াও চীন সরকার কিছু বৃত্তি দিয়ে থাকে,যেমনঃ

১. মিউনিসিপ্যাল সরকার বৃত্তি ২. প্রাদেশিক সরকার বৃত্তি ৩.বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের বৃত্তি ৪.এক পথ এক অঞ্চল বৃত্তি 

এই বৃত্তি গুলোর সুযোগ সুবিধা বলতে সিএসসি বৃত্তির তুলনায় অনেকটা কম,যদি টিউশন ফি আর ডর্ম ফ্রি পাওয়া যায় তাহলে লিভিং এলোয়েন্স টা হয়তো কম হবে বা অনেক সময় এই ৩ টা সুবিধার যেকোনো দুইটা পেলেন তো একটা পেলেন না এরকম আর কি ,পার্শিয়াল ও বলা চলে।তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ফুল স্কলারশিপ ও পাওয়া যায়। এই বৃত্তি গুলোতে আবেদনের জন্য একটু চোখ কান খোলা রাখলেই হবে,গুগলে সার্স দিলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের বৃত্তির জন্য ভার্সিটির ওয়েব সাইট এর সার্কুলার অনুসরন করতে হবে।উপরের যে বৃত্তি গুলোর কথা বললাম এগুলার অধিকাংশ ই আপনার চাইনীজ মিডিয়াম এ পড়তে হবে এবং ব্যাচেলর করার জন্য এগুলাই চাইনাতে বৃত্তি । এছাড়া মাস্টার্স বা পি এইচ ডি করার জন্য চাইনিজ একাডেমি অব সাইন্স, ইয়েস চাইনা প্রোগ্রাম সহ বিভিন্ন বৃত্তি আছে।

বৃত্তির খেলা শেষ তবে পুরোপুরি শেষ না, চীনের ব্যাপার টা এমন যে আপনি যেখানেই পড়েন সেখানেই একটু না একটু স্কলারশিপ আছেই । যার ফলে চাইনাতে সবাই ই মোটামুটি বৃত্তি নিয়ে পড়ে বলা যায় ,তবে এই বৃত্তির ক্যাটাগরি বা সিস্টেম একটু ভিন্ন ।

এতক্ষন আমি চাইনীজ মিডিয়াম এ পড়ালেখার কথা বলেছি এখন আসা যাক ইংরেজি মিডিয়াম এ। এটা অনেকটা সেলফ পেইড বা নিজের খরচে লেখাপড়া। যদিও প্রথমে শুনে মনে হবে নিজের খরচ মানে নিশ্চই অনেক টাকার খেলা,নিশ্বচই টাকা একটূ লাগবে তবে অনেক বেশী ও না।আগেই বলেছিলাম সব যায়গায় স্কলারশিপ আছে তো এখানেও একটু স্কলারশিপ আছে। এই স্কলারশিপ পার্শিয়াল যেমন আপনাকে হয়তো টিউশন ফি শর্ত সাপেক্ষে ফ্রি করবে কিন্তু থাকা ও চলাফেরা-খাওয়া নিজের কিংবা টিউশন ফি ও ডর্ম ফি শর্ত সাপেক্ষে ফ্রি ,চলাফেরা খাওয়া নিজের তবে ভাল ভার্সিটি হলে পার্শিয়াল যে স্কলারশিপ টা পাবেন তার পরিমান ও কম এবং ভার্সিটির রাংকিং একটু নিচের দিকে হলে পার্শিয়াল স্কলারশিপ যেটা পাবেন তার পরিমান টা বেশী হবে। তবে সুযোগ বেশী দিলে শর্ত ও বেশী এবং সেই শর্ত মানা একটু কঠিন ও বটে। এই বৃত্তি ভার্সিটি কতৃপক্ষ প্রদান করে থাকে। তবে এই বৃত্তির কিছু শর্ত থাকে যেমন রেজাল্ট ভাল করতে হবে(এখানে ৬০% মার্কস হচ্ছে পাশ মার্ক ) এবং বলে দেওয়া থাকে প্রতি সেমিস্টারে কত পার্সেন্ট মার্কস পেলে এই স্কলারশিপ থাকবে এই টাইপের আরো অন্যান্য শর্ত। আপনি যদি এই শর্ত অনুযায়ি চলেন তাহলে আপনার স্কলারশিপ থাকবে নাইলে থাকবে না। এই মাধ্যমে যারা পড়তে আসেন তাদের অধিকাংশ ই তৃতীয় কোনো ব্যক্তি বা এজেন্সীর সহায়তায় আসেন। আর ঝামেলার সৃষ্টি হয় এখানেই । শুধু আমাদের দেশের মানুষের দোষ দিয়ে আসলে লাভ নাই ,ভাল খারাপ সব যায়গায় ই আছে।

কিছু খারাপ মানুষ বা এজেন্সীর প্রতারনার শিকার হয়ে অনেকেই এখানে এসে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। প্রতারনা বলতে দেশ থেকে যখন ছাত্র রা যোগাযোগ করে বা কোনো এজেন্সীর অফিসে যায় তখন তারা ছাত্রদের যে সুযোগ সুবিধার কথা বলে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় চাইনাতে আসার পর সেই সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না ।যেমন টিউশন ফি ফ্রির কথা বলে পাঠায় পরে দেখা যায় এখানে এসে টিউশন ফি দেওয়া লাগতেছে, আমি নিজেই এমন অনেক কে দেখেছি যারা বিভিন্ন এজেন্সী বা ব্যক্তি দ্বারা প্রতারনার স্বীকার হয়েছে। পাশাপাশি ভার্সিটির সাথে যোগাযোগ করা,এডমিশন লেটার,ভিসা সহ বিভিন্ন খরচ দেখিয়ে ছাত্রদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকে।

অনেক কে দেখেছি এডমিশন লেটার আটকে রেখে অতিরিক্ত টাকা নিতে। কিংবা দেশ থেকে লোভ দিয়ে নিয়ে আসে যে সম্পূর্ণ ফ্রি ,টিউশন ,ডর্ম ও লিভিং এক্সপেন্স ও দিবে কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় আসার পর দেখা যায় স্কলারশিপ শুধু টিউশন ফি কভার করে। সেক্ষেত্রে অনেকেই বাধ্য হয়ে খরচ চালাতে না পেরে দেশে চলে যায়। আমার পরিচিত এক ভার্সিটির ২০ জন ছাত্র দেশে ফিরে গিয়েছিল। এই নেগেটিভ কথা গুলো একারনে বললাম যাতে সবাই একটু সতর্ক হয়। যারা ইংলিশ মিডিয়াম প্রোগ্রামে আসতে চান তাদের প্রতি আমার পরামর্শ থাকবে এটাই যে, সর্বোচ্চ চেস্টা করবেন নিজে নিজে ভার্সিটি তে যোগাযোগ করে আসার আর যদি সেটা না পেরে এজেন্সী বা কোনো ব্যক্তি বা বন্ধু বা যে ভার্সিটি তে যেতে চান ঐ ভার্সিটির কোনো বড় ভাই যে এজেন্ট হিসেবে কাজ করে তার মাধ্যমে আসতে চান তাহলে একটু যাচাই করে নিবেন। কারন প্রতারকের সংখ্যা,কৌশল দিন দিন বাড়ছে।

আপনি এদেশে এসে অসহায় হয়ে পড়বেন সেটাতে আমার ই খারাপ লাগবে , এজন্য এই প্রতারনার ব্যাপারে একটু জোর দিয়ে লিখলাম । আর সর্বোপরি একটা কথা, চীন দেশে পড়তে আসবেন এদেশের প্রতি সম্মান না্‌ থাকলে,এদেশের সংস্কৃতি কে ভাল না বাসলে,চীনা ভাষার প্রতি আগ্রহ না থাকলে এখানে পড়ালেখা,চলাফেরা কঠিন হবে। এজন্য যারা আসতে চান এখন থেকেই এদেশ,সংস্কৃতি,ভাষার প্রতি ভালবাসা সৃষ্টি করুন। সাবাইকে চীন দেশে স্বাগতম ।

বিঃদ্রঃ লেখাটিতে আমি আমার অভিজ্ঞতা ও জানার পরিধি যতটুকু ততটুকু শেয়ার করেছি, লেখার মধ্যে কোনো ভুল ত্রুটি হলে সেটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

লেখকঃ Mahedi Hassan Sunny

মেহেদী হাসান সানি                                                         
স্নাতক অধ্যয়নরত                                                     বেইজিং(পিকিং)বিশ্ববিদ্যালয়                                                          বেইজিং,চীন।                                     
২০১৬ সালে সিএসসি স্কলারশিপ প্রাপ্ত (এম্বাসী-শিক্ষামন্ত্রনালয়)

Comments

Popular posts from this blog

থিসিস (Thesis) লেখার ধাপ সমূহ

  সানি, এত ছোট থিসিস লেখলে হবে না, কমপক্ষে ৫০ পৃষ্ঠা তো করো.... দেশী সুপারভাইজরের মুখে এ কথা শুনে আমি চৌটানায় পড়ি.... পেপার লিখতে হলে যদি ৭-১১ পৃষ্ঠাতেই হয়ে যায় তবে সেই জিনিসের থিসিস কেন বড় করতে হবে বা এত এত এত লিখতে হবে..... মনে হচ্ছিলো জীবনটা থিসিস লিখতে লিখতেই বুড়ো হয়ে যাবে... তবে একথা সত্য যে কপিপেস্ট বিদ্যার জোরে আমাদের অনেকেই থিসিস ৭ দিনে সটান করে ফেলে.... পরে গবেষনাপত্র বা পেপার লিখবার সময় ধরা খায়। তবে থিসিস লেখবার ধাপ, নিয়ম ও কারুকার্য Research Methodology নামক কোর্সে পড়ানো হয়। তবে সব ডিপার্টমেন্টের সবাই তেমন সৌভাগ্যবান নাও হতে পারেন এই কোর্স পাবার..... হাহাহা.... আমরা গবেষণা চাই কিন্তু গবেষণা কি করে করতে, পড়তে, লিখতে, দেখাতে হয় তা শেখাই না.... জয় বাংলা !! আসুন বাংলাতে তা দেখে নেয়া যাক... Title শিরোনাম লেখার এক এক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক এক ডিজাইন ব্যবহার করার হয়। বড়ভাইয়ের থিসিস দেখে কপি মারুন। শেষ। Declaration এখানে আপনি লেখবেন যে এই থিসিস করতে গিয়ে আপনি কোন চুরি করেননি ও কপি করেন নি কাউকে, পরিশ্রম করেছেন.... হালকা নিজের ঢোল পিটিয়ে নিচে সই করুন। এখানে আপনি লেখবেন যে এই থি...

জার্নালের ফী কত করে?

মন দিয়ে পড়তে হবে। ছকটি খেয়াল করে দেখি। জার্নালা দু প্রকারঃ ভাল জার্নাল নিম্নমানের জার্নাল ভাল জার্নাল ৪ প্রকারঃ উচ্চ Q1 মধ্য Q2 মোটামুটি Q3 চলে Q4 এখন প্রতিটা Q1, Q2, Q3 ও Q4 এর ধরণ ভেদে দুটি সুবিধা রয়েছেঃ Open Access মানে হলো পুরো পেপারটা ডাউনলোড করা যায়। Close Access মানে হলো খালি এবস্ট্রাক্ট/অনেক ক্ষেত্রে এটাও দেখতে দেয়না। শুধু শিরোনাম দেখায়। পুরো পেপার নিতে হলে ডলার দেয়া লাগে। বা চুরি করা লাগে। আর এই সবগুলির-ই ছবিতে দেয়া সবকটি ক্যাটাগরি রয়েছে। অর্থাৎ ভাল জার্নালেরও C1, C2, C3, C4 এবং C5 রয়েছে। খারাপেরও C1, C2, C3, C4 এবং C5 রয়েছে। আর এদের মধ্যেঃ C1 ছাপানো ফ্রী এবং পুরো পেপার দেখা যায় কিন্তু কোন টাকা লাগে না। C2 ছাপানো ফ্রী এবং পুরো পেপার দেখা যায় কিন্তু কোন টাকা লাগে না। C3 ছাপানো ফ্রী কিন্তু পুরো পেপার দেখা যায় না। C4 পুরো পেপার দেখা যায়। টাকা দেয়া লাগে। সাধারণত প্রিডেটরী জার্নাল এখানে পড়ে। কিছু ভাল জার্নালও আছে এখানে। C5 পুরো পেপার দেখা যায়। টাকা দেয়া লাগে। সাধারণত প্রিডেটরী জার্নালগুলি এখানে পড়ে। কিছু ভাল জার্নালও আছে এখানে যারা পাবলিকেশন চার্জ নেয় না কিন্তু রঙিন ছবি বা গ...

ইন্টার্নশিপ ভাল নাকি থিসিস বা প্রজেক্ট?

  ওসাম দেশের ওসাম নিয়ম। চাকরী করতে গেলে অভিজ্ঞতা লাগবে কোন প্রতিষ্ঠানের আন্ডারে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা ও পাশ করবার কাঠামো টা তেমন করে গড়া হয় নি তাহলে এক্সপেরিয়েন্স সনদ কি নাযিল হবে আসমান হতে? যে কোন বিষয়ের সিলেবাসটা একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে বছরের পর বছর একই বিষয়ের পড়াশুনো বারবার রিপিট করা হচ্ছে সিলেবাস বড় করবার জন্য অথচ কত নতুন বিষয় বাদ পড়ে যাচ্ছে। সেম শিট দিয়ে টার্মের পর টার্ম কাজ চালানো হচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ের... এভাবেই একই গরুর বিভিন্ন নাম দিয়ে কোর্স রিপিটেশন করে মূল্যবান সময় নষ্ট করা হচ্ছে কিন্তু নতুন বিষয় বা সম্ভাবনাগুলি জানছে না কেউ। যেমন কেউ আমাকে মেরিন ইকোলজি ও মেরিন বায়লজির মধ্যে পার্থক্য দেখাতে পারবেন যে এই এই কারণে এই দুটি টপিককে অালাদা ৩ ক্রেডিটের বিষয়রুপে পড়ানো উচিত ও তাতে এই এই ফায়দা হবে.... যেখানে রিমোট সেন্সিং ও ডাটা প্রসেসিং এর একটি ইন্টার্নশিপ ঢুকিয়ে দিলেই কতই না ফায়দা হবে... ব্যবহারিক শিক্ষা + ওই প্রতিষ্ঠান হতে ৬ মাস কাজ করেছে তার সনদ। হয়ে গেল অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট। যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন বিষয়েই এই কাজ করা সম্ভব। ছাত্রছাত্রীরা চয়েজ করবে যে তারা ইন্ট...