Skip to main content

Identifying Plankton

 সমুদ্রবিজ্ঞানের সবচেয়ে সহজ কিন্তু পরিশ্রমের কাজ হলো জলজ উদ্ভিদকণা (Plankton) চিহ্নিতকরণ (Identification) যে কোনটা কোন প্রজাতি। তবে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে এই কাজটিই হয়ে উঠতে পারে সহজ সাবলীল। প্রথমেই প্লাংকটন এর ছবি সম্পন্ন বই যোগাড় করুন। নেটে সার্চ দিলেই পিডিএফ পেয়ে যেতে পারেন। স্যারদেরকে বললেও পেয়ে যেতে পারেন। কেউ কেউ পিডিএফ বই দিয়েই কাজ চালিয়ে নিতে পারে। আমি একটু কাগুজে ব্যক্তি কিনা তাই প্রিন্ট আকারে বই না পেলে ভাল লাগে না।

এখন ৭ দিন সময় নিন। বইগুলির পাতা ওল্টান ও ছবিগুলি দেখুন ১ বার করে। নামগুলি হালকা রিডিং পড়ুন। এই ৭ দিনে যতবার খতম দেয়া যায় বইগুলি। :)

এবার আপনি যে এলাকা হতে পানি (প্লাংকটন) সংগ্রহ করেছেন সেখানকার উপর আগে কোন গবেষণা পত্র পাবলিশ আছে কিনা তা তার আশেপাশের কোন গবেষণা পত্র আছে কিনা তা দেখতে হবে নেটে সার্চ করে। শব্দগুলি হতে পারে, প্লাংকটন এবান্ডান্স+স্থানের নাম, প্ল্যাংকটন কম্যুনিটি স্ট্রাকচার+স্থানের নাম, প্ল্যাংকটন ডিস্ট্রিবিউশন+স্থানের নাম ইত্যাদি.... গুগলে দিলেই হবে। পিডিএফ নামিয়ে নিন।

এবার যদি একই স্থানের আগে করা গবেষণা বা তার আশেপাশের কোন পেপার পেয়ে যান তবে তার নামগুলি লিস্ট করুন একটি কাগজে। কারণ অধিকাংশ প্লাংটন এর মধ্য হতেই পাবেন। যদি পারেন তো সেই নামগুলি অনুযায়ী নেট হতে ছবি নামিয়ে নিয়ে ছোটখাট নিজের মতো বই বানিয়ে নিতে পারেন তাহলে বেশি সুবিধা হবে। সময় লাগতে পারে ১০-১৫ দিনের মতো।

এবার এই লিংক ( goo.gl/ntskUm) হতে গণভিত্তিক দেহ গঠনচিত্র নামিয়ে প্রিন্ট করে যেখানে বসে আইডেন্টিফিকেশন করবেন তার সামনে টেবিলে বা দেয়ালে লাগিয়ে ফেলুন পোস্টারের মতো।

পাশেই কম্পিউটার রাখতে পারেন ব্যাকআপ হিসেবে। ইন্টারনেট সংযোগ সহ।

ধরুন পাশের বাড়ির পুকুর হতে বা নদী হতে বা সমুদ্র হতে ১ লিটার পানি বোতলে ভরলেন। তাকে ৫% ফরমালিন বা ১০% লুগলস আয়োডিন সল্যুশন যোগ করে প্রিজার্ভ করলেন। অনেকে (আমি) ৩০মিলিলিটার ফরমালিন ব্যবহার করি প্রতি লিটার ফাইটোপ্ল্যাংকটন স্যাম্পলে। ফরমালিন ব্যবহারে সাবধান থাকবেন। মাস্ক ও গ্লভস মাস্ট। এবার তা নিয়ে ল্যাবে চলে আসুন।

সাধারণত ২ ধরনের প্লাংকটন স্যাম্পল হয়। একটি বটল স্যাম্পল, অন্যটি নেট স্যাম্পল। নেট স্যাম্পল সরাসরি গ্লাস স্লাইডে করে মাইক্রোস্কোপের তলে দেয়া গেলেও বটল স্যাম্পলকে ১০০ মিলিতে কনসেন্ট্রেশন করে নিতে হবে। ১ লিটার স্যাম্পলকে ২৪ ঘন্টা রেখে দিয়ে উপরের ৮০০-৯০০ মিলি পানিকে সাইফন করে ফেলে দিলেই হবে। এরপর তাকে উটেরমল চেম্বারে আরও ২৪ ঘন্টা রেখে উপরের ৮০ মিলি সাইফন করে ফেলে দিতে হবে। এবার তা লেন্সের তলে/উপরে রাখুন।

স্যাম্পলে ফরমালিন থাকলে মাস্ক পরে নিতে হবে। গ্লভস পরে স্যাম্পলে হাত লাগাতে হবে। এরপর মাইক্রোস্কোপ এডজাস্ট করে বসে পড়ুন। ও খুঁজুন...... ধরুন নল দিয়ে নিচের মতো দেখা গেলঃ

আমার পাওয়া Nitzschia amphibia

এখন কিভাবে বের করবেন এটি কোন প্রজাতি?

  1. প্রথমে সামনে লাগানো পেজগুলি হতে দেখে নিন এই দেহগঠন কোন গণের অন্তর্ভূক্ত।
  2. তারপর সেই গনে নিজের বানানো বইটিতে দেখুন
  3. না পেলে স্যারের দেয়া বই হতে দেখান
  4. না পেলে ইন্টার্নেটে সার্চ দিন
  5. না পেলে চবি তুলে রাখুন। বাসায় গিয়ে খুঁজবেন ঠান্ডা মাথায়
  6. বা ছবি দেখিয়ে স্যারদের জিজ্ঞাসা করুন।

ব্যাস..... MS Excel এ লিস্ট বানাতে শুরু করুন। কোন প্রজাতি কতটা পেলেন। :)

এভাবেই চলতে থাকবে...........

প্রয়োজনীয় বই সমূহের লিংকঃ goo.gl/8SgStt

টিপসঃ

  1. মাথা ঠান্ডা থাকা জরুরী নাহলে হাজার হাজার প্লাংটনের দেহের গঠন গুলিয়ে যেতে পারে।
  2. ঘাড় ও কোমর ব্যাথা হয়ে যেতে পারে। ১ ঘন্টা পর পর একটু হাাঁটাচলা করে নিবেন।
  3. পাশেই খাবার পানি রাখুন ও তা খাবার সময় চোখ দুটিকেও একটু ভিজিয়ে টিস্যু দিয়ে মুছে নিন।
  4. মাইক্রোস্কোপটি সাবধানে ব্যবহার করুন নিয়মানুযায়ী।

Comments

Popular posts from this blog

থিসিস (Thesis) লেখার ধাপ সমূহ

  সানি, এত ছোট থিসিস লেখলে হবে না, কমপক্ষে ৫০ পৃষ্ঠা তো করো.... দেশী সুপারভাইজরের মুখে এ কথা শুনে আমি চৌটানায় পড়ি.... পেপার লিখতে হলে যদি ৭-১১ পৃষ্ঠাতেই হয়ে যায় তবে সেই জিনিসের থিসিস কেন বড় করতে হবে বা এত এত এত লিখতে হবে..... মনে হচ্ছিলো জীবনটা থিসিস লিখতে লিখতেই বুড়ো হয়ে যাবে... তবে একথা সত্য যে কপিপেস্ট বিদ্যার জোরে আমাদের অনেকেই থিসিস ৭ দিনে সটান করে ফেলে.... পরে গবেষনাপত্র বা পেপার লিখবার সময় ধরা খায়। তবে থিসিস লেখবার ধাপ, নিয়ম ও কারুকার্য Research Methodology নামক কোর্সে পড়ানো হয়। তবে সব ডিপার্টমেন্টের সবাই তেমন সৌভাগ্যবান নাও হতে পারেন এই কোর্স পাবার..... হাহাহা.... আমরা গবেষণা চাই কিন্তু গবেষণা কি করে করতে, পড়তে, লিখতে, দেখাতে হয় তা শেখাই না.... জয় বাংলা !! আসুন বাংলাতে তা দেখে নেয়া যাক... Title শিরোনাম লেখার এক এক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক এক ডিজাইন ব্যবহার করার হয়। বড়ভাইয়ের থিসিস দেখে কপি মারুন। শেষ। Declaration এখানে আপনি লেখবেন যে এই থিসিস করতে গিয়ে আপনি কোন চুরি করেননি ও কপি করেন নি কাউকে, পরিশ্রম করেছেন.... হালকা নিজের ঢোল পিটিয়ে নিচে সই করুন। এখানে আপনি লেখবেন যে এই থি...

জার্নালের ফী কত করে?

মন দিয়ে পড়তে হবে। ছকটি খেয়াল করে দেখি। জার্নালা দু প্রকারঃ ভাল জার্নাল নিম্নমানের জার্নাল ভাল জার্নাল ৪ প্রকারঃ উচ্চ Q1 মধ্য Q2 মোটামুটি Q3 চলে Q4 এখন প্রতিটা Q1, Q2, Q3 ও Q4 এর ধরণ ভেদে দুটি সুবিধা রয়েছেঃ Open Access মানে হলো পুরো পেপারটা ডাউনলোড করা যায়। Close Access মানে হলো খালি এবস্ট্রাক্ট/অনেক ক্ষেত্রে এটাও দেখতে দেয়না। শুধু শিরোনাম দেখায়। পুরো পেপার নিতে হলে ডলার দেয়া লাগে। বা চুরি করা লাগে। আর এই সবগুলির-ই ছবিতে দেয়া সবকটি ক্যাটাগরি রয়েছে। অর্থাৎ ভাল জার্নালেরও C1, C2, C3, C4 এবং C5 রয়েছে। খারাপেরও C1, C2, C3, C4 এবং C5 রয়েছে। আর এদের মধ্যেঃ C1 ছাপানো ফ্রী এবং পুরো পেপার দেখা যায় কিন্তু কোন টাকা লাগে না। C2 ছাপানো ফ্রী এবং পুরো পেপার দেখা যায় কিন্তু কোন টাকা লাগে না। C3 ছাপানো ফ্রী কিন্তু পুরো পেপার দেখা যায় না। C4 পুরো পেপার দেখা যায়। টাকা দেয়া লাগে। সাধারণত প্রিডেটরী জার্নাল এখানে পড়ে। কিছু ভাল জার্নালও আছে এখানে। C5 পুরো পেপার দেখা যায়। টাকা দেয়া লাগে। সাধারণত প্রিডেটরী জার্নালগুলি এখানে পড়ে। কিছু ভাল জার্নালও আছে এখানে যারা পাবলিকেশন চার্জ নেয় না কিন্তু রঙিন ছবি বা গ...

ইন্টার্নশিপ ভাল নাকি থিসিস বা প্রজেক্ট?

  ওসাম দেশের ওসাম নিয়ম। চাকরী করতে গেলে অভিজ্ঞতা লাগবে কোন প্রতিষ্ঠানের আন্ডারে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা ও পাশ করবার কাঠামো টা তেমন করে গড়া হয় নি তাহলে এক্সপেরিয়েন্স সনদ কি নাযিল হবে আসমান হতে? যে কোন বিষয়ের সিলেবাসটা একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে বছরের পর বছর একই বিষয়ের পড়াশুনো বারবার রিপিট করা হচ্ছে সিলেবাস বড় করবার জন্য অথচ কত নতুন বিষয় বাদ পড়ে যাচ্ছে। সেম শিট দিয়ে টার্মের পর টার্ম কাজ চালানো হচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ের... এভাবেই একই গরুর বিভিন্ন নাম দিয়ে কোর্স রিপিটেশন করে মূল্যবান সময় নষ্ট করা হচ্ছে কিন্তু নতুন বিষয় বা সম্ভাবনাগুলি জানছে না কেউ। যেমন কেউ আমাকে মেরিন ইকোলজি ও মেরিন বায়লজির মধ্যে পার্থক্য দেখাতে পারবেন যে এই এই কারণে এই দুটি টপিককে অালাদা ৩ ক্রেডিটের বিষয়রুপে পড়ানো উচিত ও তাতে এই এই ফায়দা হবে.... যেখানে রিমোট সেন্সিং ও ডাটা প্রসেসিং এর একটি ইন্টার্নশিপ ঢুকিয়ে দিলেই কতই না ফায়দা হবে... ব্যবহারিক শিক্ষা + ওই প্রতিষ্ঠান হতে ৬ মাস কাজ করেছে তার সনদ। হয়ে গেল অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট। যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন বিষয়েই এই কাজ করা সম্ভব। ছাত্রছাত্রীরা চয়েজ করবে যে তারা ইন্ট...