Skip to main content

দেশে NST Fellowship কিভাবে পাবো?

 জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলশিপ বা NST fellowship দেয়া হয় মাস্টার্স ও পিএইচডিতে গবেষণারত ছাত্রছাত্রীদের গবেষণাকাজে সরকারের পক্ষ হতে সহায়তা করবার জন্য। মোট ৩টি গ্রুপে এই ফেলোশিপ প্রদান করা হয়:

  1. ভৌত, জৈব ও অজৈব বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও পরিবেশ বিজ্ঞান, নবায়নযোগ্য শক্তি বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ন্যানোটেকনোলজি, লাগসই প্রযুক্তি
  2. জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং
  3. খাদ্য ও কৃষি বিজ্ঞান।

যাদের পড়বার বিষয় এই ক্যাটাগরির সাথে মিলে বা সংযুক্ত তারা আবেদন করতে পারেন। আবেদনের বিশদ নিয়মাবলি এই সাইটে (http://www.most.gov.bd) প্রকাশ করা হয়। এবং রেজাল্ট এর জন্য নিয়মিত এই সাইটের লিংকে (http://www.most.gov.bd/site/view/notices) খোঁজ রাখতে হয়। টাকা পাবার জন্য কিছু গবেষক বুভুক্ষের মতো তাকিয়ে থাকে এখানে.....

নিম্নের কাগজপত্র যথাযথভাবে ঠিকঠাক করে নিয়ে খামে ভরে জমা দিতে হয় মন্ত্রণালয়েরর গেটে।

  1. গবেষণা প্রস্তাব
  2. ৩০০ টাকার স্টাম্প পেপারে অঙ্গীকার নামা
  3. ডিপার্টমেন্টের হেডের রিকমেন্ডেশন
  4. সুপারভাইজরের রিকমেন্ডেশন

এগুলির ফরম্যাট সাইটে দেয়া থাকে। নতুবা বড়ভাই (বোন?!) হতে নিয়ে নেবেন। এর কিছুদিন পর সাইটে (http://www.most.gov.bd/site/view/notices) রেজাল্ট দিবে যে ভাইভার জন্য কে কে সিলেক্ট হয়েছে। তারা ভাইভাবে যাবে। ততটা কঠিন ভাইভা হয়না। গবেষণা কাজ-এর গুরুত্ব বোঝাতে হয়, সুপারভাইজরের সুনামও কাজে লাগে, কপালও লাগে..... ৫-১০ মিনিটের বেশি ভাইভা হয়না.... যারা ভাইভা দেন তাদের অনেকেই হয়ে যায় তবে বাদও পড়েন অনেকে নানা জটিলতার কারণে।

এর কিছু মাস পরে রেজাল্ট দেবে যে কে কে টাকা পাবে.... তারা নির্দিষ্ট দিনে মন্ত্রনালয়েরর ভেতরে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে টাকা তোলে। দেশের উচ্চশিক্ষিতদের লাইন সেটা। হাতাহাতি, ঠেলাঠেলি, ঝগড়া ও লাইনে সামনে দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশও ঘটে কতিপয় গবেষকদের কল্যাণে। ছেলেমেয়ে মিশ্রিত এই ভীড়ে কোথাও হালকা ছোঁয়া লাগলেই ধরে যেতে পারে আত্মসম্মানের আগুন। সাবধান।

সাধারণত ৬ মাস পরপর ২৭ হাজার টাকা করে মোট ৫৪ হাজার টাকা দেয়া হয় মাস্টার্সদের। পিএইচডিদের দেয়া হয় আরও বেশি। একবারের টাকা দেয়া হলে ৬ মাসের গবেষণার আপডেট জমা দিয়ে পরের কিস্তি নেয়া লাগে। বিজ্ঞপ্তিতে সব ডিটেইলস দেয়া থাকে।

বিদ্রঃ ইহা শুধুমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যায়য়ের জন্য প্রযোজ্য।

এরপর টাকা হাতে আসলে সেই টাকাকে ভাগ বাটোয়ারা করা হয়। কিছু ডিপার্টমেন্টের স্যার ডিপার্টমেন্টের কল্যাণের জন্য কেটে নেন, কিছু গবেষক তার বন্ধুদের নিয়ে চা নাস্তা করেন ও বাকি টাকা দিয়ে মোবাইল বা শখের কোন জিনিস কেনেন.... দিনশেষে জোড়াতালি দিয়ে গবেষণা করেন....

হ্যাঁ এর মাঝে কিছু ব্যাতিক্রম (ডিপার্টমেন্ট, শিক্ষক,ছাত্র,ছাত্রী) আছে তবে তা আমার দেখা ১০ জনে ২ জন।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার গবেষণা শেষে পুরো থিসিসের কপি কাগজ, রিপোর্ট ও সিডি আকারে জমা দিতে হয় যা অনেকেই দেন না। এমনকি বন্ডে গ্যারান্টি দেয়া শিক্ষকও তাগাদা দেন না....

আমি ফেলাশিপ পাবার পর একটা কবিতা লিখেছিলাম এটা নিয়েঃ

খাবো ডিম ভাজা

দেখি ঘরে নেই তেল; এ কোন সাজা..

সরকারি তেল !

নিতে গিয়ে মাথায়; পড়েছিল বেল...

কাকডাকা প্রাতে

দাড়িয়েনু লাইনে; আবেদন হাতে...

টুপিপরা কাকু

ধীয়মান তিনি যেন; আবগারি ডাকু...

জোরে হেঁকে হাঁক

শতলোকে বলে কই; মোর নাম ডাক...

সরকারি বাঁশ !

বছরেতে তারা আনে; সতেরোটা মাস...

বলি মহাশয়

তেল গেল শুকিয়ে; মোর করে ভয়...

ফেলে আঁখিজল

শতঘর পরেদেখি; নাম বীরবল...

লবো মুই তেল

লাইনশেষে দেখি; নয়া এক খেল...

আবেদনে ত্রুটি !

আবার লিখিতে বলে; কাকু নেড়ে ঝুঁটি..

মুই বলি কেঁদে

কেন মোরে ফেলিলেনু; আইনেরই ফাঁদে...

কাকু বলে হেসে

দুটাকা বের করে; বসো পাঁশ ঘেঁষে...

খেতে ডিম ভেজে

সরকারি তেল পেতে; নোট দাও গুঁজে...

শুনে আমি খুন

আশার গুঁড়েতে বালি; মুখ হলো চুন..

কবে পাবো তেল

শয়ে শয়ে নোট ঢেলে; পেকে গেল বেল...

বলে মোর মায়

সরকারী তেল খাবি; করে হায় হায়...

মুই কান মলে

পড়ে রই বীর বাবু; এই গ্যাঁড়াকলে...

অনেকেই দেখলাম ফেলোশিপ পেয়েছে বা পাচ্ছে বা পাবে। সকলের জন্য শুভ কামনা রইলো। বিদেশে এসে কেউ পড়াশুনা করে কেউ মদে খরচ করে স্কলারশিপের টাকা। তেমনি টাকা সরকার দিচ্ছে। চয়েজ আপনার বিবেকের। কি করবেন তা দিয়ে.....

মজার ব্যাপার হলো এরা সামান্য টাকার লোভই ছাড়তে পারে না আর স্ট্যাটাস মারায় “দেশে গবেষণা খাতে সরকারি বরাদ্ধ খুবই কম”.............. হাহাহা.... ভাইরে, যা দিচ্ছে তার সুষ্ঠূ ব্যবহার কি করছেন?

উপযুক্ত জণগণের উপযুক্ত সরকার। জয় বাংলা। সকাল আসবেই...... :)

Comments

Popular posts from this blog

থিসিস (Thesis) লেখার ধাপ সমূহ

  সানি, এত ছোট থিসিস লেখলে হবে না, কমপক্ষে ৫০ পৃষ্ঠা তো করো.... দেশী সুপারভাইজরের মুখে এ কথা শুনে আমি চৌটানায় পড়ি.... পেপার লিখতে হলে যদি ৭-১১ পৃষ্ঠাতেই হয়ে যায় তবে সেই জিনিসের থিসিস কেন বড় করতে হবে বা এত এত এত লিখতে হবে..... মনে হচ্ছিলো জীবনটা থিসিস লিখতে লিখতেই বুড়ো হয়ে যাবে... তবে একথা সত্য যে কপিপেস্ট বিদ্যার জোরে আমাদের অনেকেই থিসিস ৭ দিনে সটান করে ফেলে.... পরে গবেষনাপত্র বা পেপার লিখবার সময় ধরা খায়। তবে থিসিস লেখবার ধাপ, নিয়ম ও কারুকার্য Research Methodology নামক কোর্সে পড়ানো হয়। তবে সব ডিপার্টমেন্টের সবাই তেমন সৌভাগ্যবান নাও হতে পারেন এই কোর্স পাবার..... হাহাহা.... আমরা গবেষণা চাই কিন্তু গবেষণা কি করে করতে, পড়তে, লিখতে, দেখাতে হয় তা শেখাই না.... জয় বাংলা !! আসুন বাংলাতে তা দেখে নেয়া যাক... Title শিরোনাম লেখার এক এক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক এক ডিজাইন ব্যবহার করার হয়। বড়ভাইয়ের থিসিস দেখে কপি মারুন। শেষ। Declaration এখানে আপনি লেখবেন যে এই থিসিস করতে গিয়ে আপনি কোন চুরি করেননি ও কপি করেন নি কাউকে, পরিশ্রম করেছেন.... হালকা নিজের ঢোল পিটিয়ে নিচে সই করুন। এখানে আপনি লেখবেন যে এই থি...

জার্নালের ফী কত করে?

মন দিয়ে পড়তে হবে। ছকটি খেয়াল করে দেখি। জার্নালা দু প্রকারঃ ভাল জার্নাল নিম্নমানের জার্নাল ভাল জার্নাল ৪ প্রকারঃ উচ্চ Q1 মধ্য Q2 মোটামুটি Q3 চলে Q4 এখন প্রতিটা Q1, Q2, Q3 ও Q4 এর ধরণ ভেদে দুটি সুবিধা রয়েছেঃ Open Access মানে হলো পুরো পেপারটা ডাউনলোড করা যায়। Close Access মানে হলো খালি এবস্ট্রাক্ট/অনেক ক্ষেত্রে এটাও দেখতে দেয়না। শুধু শিরোনাম দেখায়। পুরো পেপার নিতে হলে ডলার দেয়া লাগে। বা চুরি করা লাগে। আর এই সবগুলির-ই ছবিতে দেয়া সবকটি ক্যাটাগরি রয়েছে। অর্থাৎ ভাল জার্নালেরও C1, C2, C3, C4 এবং C5 রয়েছে। খারাপেরও C1, C2, C3, C4 এবং C5 রয়েছে। আর এদের মধ্যেঃ C1 ছাপানো ফ্রী এবং পুরো পেপার দেখা যায় কিন্তু কোন টাকা লাগে না। C2 ছাপানো ফ্রী এবং পুরো পেপার দেখা যায় কিন্তু কোন টাকা লাগে না। C3 ছাপানো ফ্রী কিন্তু পুরো পেপার দেখা যায় না। C4 পুরো পেপার দেখা যায়। টাকা দেয়া লাগে। সাধারণত প্রিডেটরী জার্নাল এখানে পড়ে। কিছু ভাল জার্নালও আছে এখানে। C5 পুরো পেপার দেখা যায়। টাকা দেয়া লাগে। সাধারণত প্রিডেটরী জার্নালগুলি এখানে পড়ে। কিছু ভাল জার্নালও আছে এখানে যারা পাবলিকেশন চার্জ নেয় না কিন্তু রঙিন ছবি বা গ...

ইন্টার্নশিপ ভাল নাকি থিসিস বা প্রজেক্ট?

  ওসাম দেশের ওসাম নিয়ম। চাকরী করতে গেলে অভিজ্ঞতা লাগবে কোন প্রতিষ্ঠানের আন্ডারে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা ও পাশ করবার কাঠামো টা তেমন করে গড়া হয় নি তাহলে এক্সপেরিয়েন্স সনদ কি নাযিল হবে আসমান হতে? যে কোন বিষয়ের সিলেবাসটা একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে বছরের পর বছর একই বিষয়ের পড়াশুনো বারবার রিপিট করা হচ্ছে সিলেবাস বড় করবার জন্য অথচ কত নতুন বিষয় বাদ পড়ে যাচ্ছে। সেম শিট দিয়ে টার্মের পর টার্ম কাজ চালানো হচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ের... এভাবেই একই গরুর বিভিন্ন নাম দিয়ে কোর্স রিপিটেশন করে মূল্যবান সময় নষ্ট করা হচ্ছে কিন্তু নতুন বিষয় বা সম্ভাবনাগুলি জানছে না কেউ। যেমন কেউ আমাকে মেরিন ইকোলজি ও মেরিন বায়লজির মধ্যে পার্থক্য দেখাতে পারবেন যে এই এই কারণে এই দুটি টপিককে অালাদা ৩ ক্রেডিটের বিষয়রুপে পড়ানো উচিত ও তাতে এই এই ফায়দা হবে.... যেখানে রিমোট সেন্সিং ও ডাটা প্রসেসিং এর একটি ইন্টার্নশিপ ঢুকিয়ে দিলেই কতই না ফায়দা হবে... ব্যবহারিক শিক্ষা + ওই প্রতিষ্ঠান হতে ৬ মাস কাজ করেছে তার সনদ। হয়ে গেল অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট। যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন বিষয়েই এই কাজ করা সম্ভব। ছাত্রছাত্রীরা চয়েজ করবে যে তারা ইন্ট...