Skip to main content

আসুন Paper (গবেষণা পত্র) লেখি

 নিয়মমাফিক কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষক বা সুপারভাইজরের অধীনে নির্দিষ্ট সময় ব্যাপি কাজ করবার পর সেই কাজ ধাপে ধাপে লিপিবদ্ধকরে বিশ্বদরবারে উপস্থাপন করাকেই Scientific Paper বা গবেষণা পত্র বলে। আমাদের দেশে একটা মজার অভ্যাস আছে তা হলো আগে থিসিস (Thesis) বা গবেষণা গ্রন্থ লিখে নিয়ে পরে তা কাটছাট করে গবেষণাপত্র বানাই।

কাকে কিভাবে বোঝাই যে আগে পেপার লিখে নিয়ে তাতে হাবিজাবি যোগ করে থিসিস বানানো কোন ব্যাপার না কিন্তু থিসিস হতে ঝোপজঙ্গল বাদ দিয়ে পেপার বানানো টা টোটাল মাথা নষ্ট ব্যাপার। অথচ সেই কাজটাই আমরা অসামভাবে করি। কিভাবে কে জানে..........

যাকগে... ধাপগুলি জেনে নেই...

প্রথমেই শিরোনাম (Title) দিতে হবে ১ লাইনে। তার নিচে লেখকদ্বয় বা লেখকসমূহের নাম যোগ্যতার ক্রমানুসারে বসাতে হবে। নিজে থাকবে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ঠিকানা। যদি তারা আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠানের হয় তবে বর্ণাসুরে ঠিকানা সাজিয়ে ১,২,৩ ক্রম করে পরে এই ১,২,৩ কে স্ব স্ব লোকের নামের পেছনে বসিয়ে সুপারস্ক্রিপ্ট করে দিতে হবে।

এরপর লিখতে হবে (Abstract) ফলাফলের সারাংশ। প্রথমেই বলে রাখি এক এক জার্নাল এক এক নিয়ম পছন্দ বা ফলো করে ফলে কোন জার্নালে ছাপাবেন সেই জার্নালের নিয়ম ও শব্দসীমা অনুযায়ী এটা সাজাতে হবে। কিছু কিছু জার্নাল ৩০০ এর বেশি শব্দ নেয় না তাই এখানে ইতিহাস রচনা করা যাবে না বা পুরো রেজাল্টটাই তুলে দেয়া যাবে না। গুরুত্বপূর্ণ এভারেজ রেজাল্ট দিতে হবে যতটা পারা যায়।

এরপর শুরু করুন ভূমিকা (Introduction)। কি করছেন তার পূর্বইতিহাস। কেউ করে থাকলে তিনি কি কি করেছেন, আপনি কি নিয়ে করছেন তাদের বর্ণনা, কোথায় করছেন তার মহিমা, ও ভূমিকার শেষে কি কি করতে যাচ্ছেন তা অবজেক্টিভ আকারে দেখিয়ে স্পষ্ট করে দেয়া। অল্প কথায় গল্প সারুন।

এবার লেখুন পদ্ধতি (Materials & Methods)। দেখুন নতুন কোন পদ্ধতি যদি আবিষ্কার করে না থাকেন তবে পুরো বর্ণনা না লিখে কার পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন তার পেপারের রেফারেন্স দিয়ে পাততাড়ি গোটান। কোথায় করেছেন, কি দিয়ে করেছেন? সময় কতটুকু ছিল? কোন পদ্ধতিতে করেছেন তার হালকা বর্ণনা থাকতে পারে। এনালাইসিস বা বিশ্লেষণ কি কি সফটওয়ার দিয়ে করেছেন তার নামসহ কোন কাজটি করেছেন তা উল্লখ করবেন।

ফলাফলে (Results) এ আসা যাক। অনেকে রেজাল্ট ও ডিসকাশন আলাদা আলাদা করে লেখে কিন্তু এতে ডাটা রিপিটেশনের ভয় থেকে যায় তাই আমি Results ও Discussions একসাথে লিখতে বলবো। এবং তা কয়েকটা সেগমেন্ট বাগ করে লিখলে অন্য গবেষকদের বুঝতে সুবিধা হবে। পেপারের সাইটেশন ও বাড়বে সহজে। যেমন কি রেজাল্ট আসলো তার সাথে অন্য কোন গবেষকের মিল পেলেন বা কার সাথে মেলেনি। কেন মেলেনি বলে মনে করছেন। বা মিলে গেলে কতজনের সাথে মিলেছে। কি কারণে মিললো। অন্য কোন গবেষক কি মনে করেন সে বিষয়ে এমন করেই এক এক সেগমেন্ট শেষ করুন।

যারা বিশ্লেষন (Discussions) আলাদা করতে চান তাদের জন্য একটাই টিপস, পূর্বাতিহাস পর্যবেক্ষণ (Literature Review) হুবহু তুলে দেবেন না আর একই রেজাল্ট এখানে লিখতে চাইলে কোন গবেষণার সাথে তুলনা দিয়ে লেখুন। নাহলে দরকার নেই।

উপসংহারে (Conclusions) ২-৩ লাইন দিলে বেস্ট। রেজাল্টের এভারেজ সামারি ও তা নিয়ে আপনার মন্তব্য এবং ভবিষ্যতে এর পর হতে আর কি করা যায় তার ১ লাইনে নির্দেশনা। শেষ।

এবার গবেষণা সূত্র (Reference) দিতে হবে। নানা জার্নাল নানা নিয়ম ফলোট করে তাই তাদের ওয়েবসাইটের বর্ণনা অনুযায়ী রেফারেন্স লিখুন নতুবা এই চুলের রেফারেন্স সাজাতে সাজাতেই একজন গবেষক বুড়ো হয়ে যান। নিময় মানুন। শান্তিমতো থাকুন।

আশা করছি উঠতি নয়া গবেষকদের সায়েন্টিফিক পেপার বিষয়ে হালকা ধারণা হবে। আর নিজ চোখে পেপারের গঠন দেখতে এইসকল লিংকে গেলেই হবে।

পণ্য বিপনন এর পেপারঃ goo.gl/HHu11o

কনফারেন্স পেপারঃ goo.gl/izRuue

মাছ নিয়েঃ goo.gl/j5ydqd

আর্থ-সামাজিকতা নিয়েঃ goo.gl/2vz8EQ

Comments

Popular posts from this blog

থিসিস (Thesis) লেখার ধাপ সমূহ

  সানি, এত ছোট থিসিস লেখলে হবে না, কমপক্ষে ৫০ পৃষ্ঠা তো করো.... দেশী সুপারভাইজরের মুখে এ কথা শুনে আমি চৌটানায় পড়ি.... পেপার লিখতে হলে যদি ৭-১১ পৃষ্ঠাতেই হয়ে যায় তবে সেই জিনিসের থিসিস কেন বড় করতে হবে বা এত এত এত লিখতে হবে..... মনে হচ্ছিলো জীবনটা থিসিস লিখতে লিখতেই বুড়ো হয়ে যাবে... তবে একথা সত্য যে কপিপেস্ট বিদ্যার জোরে আমাদের অনেকেই থিসিস ৭ দিনে সটান করে ফেলে.... পরে গবেষনাপত্র বা পেপার লিখবার সময় ধরা খায়। তবে থিসিস লেখবার ধাপ, নিয়ম ও কারুকার্য Research Methodology নামক কোর্সে পড়ানো হয়। তবে সব ডিপার্টমেন্টের সবাই তেমন সৌভাগ্যবান নাও হতে পারেন এই কোর্স পাবার..... হাহাহা.... আমরা গবেষণা চাই কিন্তু গবেষণা কি করে করতে, পড়তে, লিখতে, দেখাতে হয় তা শেখাই না.... জয় বাংলা !! আসুন বাংলাতে তা দেখে নেয়া যাক... Title শিরোনাম লেখার এক এক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক এক ডিজাইন ব্যবহার করার হয়। বড়ভাইয়ের থিসিস দেখে কপি মারুন। শেষ। Declaration এখানে আপনি লেখবেন যে এই থিসিস করতে গিয়ে আপনি কোন চুরি করেননি ও কপি করেন নি কাউকে, পরিশ্রম করেছেন.... হালকা নিজের ঢোল পিটিয়ে নিচে সই করুন। এখানে আপনি লেখবেন যে এই থি...

জার্নালের ফী কত করে?

মন দিয়ে পড়তে হবে। ছকটি খেয়াল করে দেখি। জার্নালা দু প্রকারঃ ভাল জার্নাল নিম্নমানের জার্নাল ভাল জার্নাল ৪ প্রকারঃ উচ্চ Q1 মধ্য Q2 মোটামুটি Q3 চলে Q4 এখন প্রতিটা Q1, Q2, Q3 ও Q4 এর ধরণ ভেদে দুটি সুবিধা রয়েছেঃ Open Access মানে হলো পুরো পেপারটা ডাউনলোড করা যায়। Close Access মানে হলো খালি এবস্ট্রাক্ট/অনেক ক্ষেত্রে এটাও দেখতে দেয়না। শুধু শিরোনাম দেখায়। পুরো পেপার নিতে হলে ডলার দেয়া লাগে। বা চুরি করা লাগে। আর এই সবগুলির-ই ছবিতে দেয়া সবকটি ক্যাটাগরি রয়েছে। অর্থাৎ ভাল জার্নালেরও C1, C2, C3, C4 এবং C5 রয়েছে। খারাপেরও C1, C2, C3, C4 এবং C5 রয়েছে। আর এদের মধ্যেঃ C1 ছাপানো ফ্রী এবং পুরো পেপার দেখা যায় কিন্তু কোন টাকা লাগে না। C2 ছাপানো ফ্রী এবং পুরো পেপার দেখা যায় কিন্তু কোন টাকা লাগে না। C3 ছাপানো ফ্রী কিন্তু পুরো পেপার দেখা যায় না। C4 পুরো পেপার দেখা যায়। টাকা দেয়া লাগে। সাধারণত প্রিডেটরী জার্নাল এখানে পড়ে। কিছু ভাল জার্নালও আছে এখানে। C5 পুরো পেপার দেখা যায়। টাকা দেয়া লাগে। সাধারণত প্রিডেটরী জার্নালগুলি এখানে পড়ে। কিছু ভাল জার্নালও আছে এখানে যারা পাবলিকেশন চার্জ নেয় না কিন্তু রঙিন ছবি বা গ...

ইন্টার্নশিপ ভাল নাকি থিসিস বা প্রজেক্ট?

  ওসাম দেশের ওসাম নিয়ম। চাকরী করতে গেলে অভিজ্ঞতা লাগবে কোন প্রতিষ্ঠানের আন্ডারে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা ও পাশ করবার কাঠামো টা তেমন করে গড়া হয় নি তাহলে এক্সপেরিয়েন্স সনদ কি নাযিল হবে আসমান হতে? যে কোন বিষয়ের সিলেবাসটা একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে বছরের পর বছর একই বিষয়ের পড়াশুনো বারবার রিপিট করা হচ্ছে সিলেবাস বড় করবার জন্য অথচ কত নতুন বিষয় বাদ পড়ে যাচ্ছে। সেম শিট দিয়ে টার্মের পর টার্ম কাজ চালানো হচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ের... এভাবেই একই গরুর বিভিন্ন নাম দিয়ে কোর্স রিপিটেশন করে মূল্যবান সময় নষ্ট করা হচ্ছে কিন্তু নতুন বিষয় বা সম্ভাবনাগুলি জানছে না কেউ। যেমন কেউ আমাকে মেরিন ইকোলজি ও মেরিন বায়লজির মধ্যে পার্থক্য দেখাতে পারবেন যে এই এই কারণে এই দুটি টপিককে অালাদা ৩ ক্রেডিটের বিষয়রুপে পড়ানো উচিত ও তাতে এই এই ফায়দা হবে.... যেখানে রিমোট সেন্সিং ও ডাটা প্রসেসিং এর একটি ইন্টার্নশিপ ঢুকিয়ে দিলেই কতই না ফায়দা হবে... ব্যবহারিক শিক্ষা + ওই প্রতিষ্ঠান হতে ৬ মাস কাজ করেছে তার সনদ। হয়ে গেল অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট। যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন বিষয়েই এই কাজ করা সম্ভব। ছাত্রছাত্রীরা চয়েজ করবে যে তারা ইন্ট...