স্কলারশিপ নিয়ে বাইরে পড়তে যাবার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয় যদি কোন ইউনিভার্সিটির প্রফেসরের অনুমতি পত্র (Letter of Acceptance) পাওয়া যায়। ব্যাপারটি আকাশের অধরা উল্কাপিন্ডের মতো মনে হলেও একেবারে অসম্ভব নয়। নিচে ২ ভাগে বিষয়টির টিপস দেয়া হবে। তার আগে প্রফেসরদের ইমেইল Address কিভাবে যোগাড় করতে হবে তার ১টি লাইন লিখে দেই।
কোন প্রফেসরের নাম+তার প্রতিষ্ঠানের নাম লিখে দিলেই Research Gate, Google Scholar কিংবা বিভিন্ন জার্নালে তাদের পেপারের লিস্ট চলে আসে। সেই পেপারগুলি ঘাঁটাঘাঁটি করে ওই জার্নাল বা ওয়েবসাইটে খোলা তাদের প্রোফাইল খুঁজে বের করে সেখান হতে ইমেইল নিয়ে নিতে হয়।
:) প্রথমভাগে গণহারে প্রফেসরদেরকে কভার লেটার পাঠানোঃ
- প্রফেসর যেদেশে আছেন সেই দেশের সময় অনুযায়ী সকাল ৬টা বা ৭টার দিকে মেইল পাঠানো যেন তিনি সকাল ৮টা বা ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে বা ঘুম হতে উঠে চোখের সামনে পেয়ে যান।
- খুব সাবধান। একজনের কভার লেটার ( goo.gl/CQZYig ) অন্যজনকে পাঠানোর মতো সামান্য কারণে সুযোগ মিস হয়ে যেতে পারে....
- যাকে পাঠাচ্ছেন তার বর্তমান করা গবেষণা কাজের সাথে মিল রেখে বা যে ধরনের গবেষণা তিনি বেশি বেশি করেছেন বা করতে পছন্দ করেন বলে তার ইউনিভার্সিটি প্রোফাইল হতে জানা যায় সেই সকল কাজের সাথে মিল রেখে রিসার্চ প্রোপজাল লিখলে অনুমতির সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
- চেষ্টা করবেন এখন যেখানে পড়ছেন বা যেখান হতে পাশ করেছেন সেখানকার বিশ্বখ্যাত শিক্ষকদের রিকমেন্ডেশন যোগাড় করে পাঠাতে।
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র টিপটপ রাখতে হবে। লিংক এখানেঃ goo.gl/yj7qN1
;) এখন যদি নির্দিষ্ট কোন প্রফেসরকে পছন্দ হয় যে তার অধীনে গবেষণা করবেন তার জন্যঃ
- অনার্স বা মাস্টার্সের গবেষণা তার কাজের সাথে মিল রেখে বিষয় চয়েজ করতে হবে যেন এই গবেষণা শেষে একটা পেপার পাবলিশ হলে রিলেটেড কাজ এর লিংক সহ আবেদন করা যায় । প্লাস পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে।
- যেকোন ভাবে রিসার্চগেটে ResearchGate আইডি খুলুন। ফেসবুকে যেমন তৈলমর্দন করেন তেমনি সেখানে তার গবেষণার নিচে ফরমাল ভাষায় কমেন্ট করুন। কোন কোন দিক ভাল লেগেছে আর কি কি ভবিষ্যত কাজ করা যায় এর পর....
- তাঁর মেইল আইডি যোগাড় করে বিশেষ বিশেষ দিবসে (তাঁর ধর্ম ও দেশ অনুযায়ী) অভিনন্দন পাঠান।
- তাঁকে যদি ফেসবুকে পান বা রিসার্চগেটে তার নতুন পেপার পাবলিশ হওয়া মাত্র তাতে রিকমেন্ডেশন করুন। কমেন্ট করুন। অভিনন্দন দিন তাঁর পরিশ্রমকে। মনে রাখবেন এগুলি তেল নয়। এগুলি সম্মান। যা মনকে খুশি করে। আর হাসিখুশি বৈজ্ঞানিক দেশের জন্য বা পৃথিবীর জন্য মঙ্গলজনক।
- কভার লেটার লেখার সময় বা রিসার্চ প্রোপজাল ( goo.gl/tEsn5K ) লেখার সময় তাঁর কাজের রেফারেন্স দিন। তাঁর কাছে যাবার আগে কোন থিসিস করলে তাতে তাঁর কাজকে সংযুক্ত করার চেষ্টা করুন।
- মাসে একবার নানা বিষয় জানতে চেয়ে তাকে মেইল করতে পারেন। যদিও জানার আগ্রহ দেশী Boysদের কতখানি বাকি আছে তা নিয়ে আমি সন্দিহান।
- অনেকেই মেইল করেন বিদেশী প্রফেসরদের যেমন চায়নাতে, কিন্তু রিপ্লাই পান না... কারন দেখা যায় অধিকাংশউ Gmail ব্যবহার করে ইমেইল করেন, জিমেইল চায়নাতে নিষিদ্ধ তাই মেইলগুলি চীনা প্রফেসরদের ট্রাশ ফোল্ডারে জমা হয়..... তাই তারা দেখতেও পান না.... এজন্য অবশ্যই ইয়াহু, আউটলুক ইত্যাদি ইমেইল ব্যবহার করবেন যেকোন আবেদনের জন্য.....
আমার এখনও মনে আছে বাংলাদেশে প্রফেসর ম্যানেজ করার ঘটনা। বাইরে বেঞ্চে বসে ছাত্র ছাত্রী অপেক্ষা করছেন। মেলা দূর হতে তারা গিয়েছেন। স্যার তাঁর জরুরী মিটিং শেষ করে আসলেন। সিজিপিএ ও কথা বলার ভদ্রতার সাথে পূর্ব যোগাযোগের উপর ভিত্তি করে কিছু শিক্ষার্থীদের গ্রহন করলেন। কিছু নেন ধর্মীয় আচরণ দেখে। কিছু তো চেহারা সুরত দেখেও নেন।
যাই হোক না কেন। প্রফেসর চাই। প্রফেসর হতে গ্রহনযোগ্যতার অনুমতিপত্র (Acceptance Letter) নিয়ে যদি কোন স্কলারশিপের ঠিকানাতে এপ্লাই করা হয় তবে ৮০% পাবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বাকিটা প্রফেসরের রেপুটেশন, স্কলারশীপে সীটসংখ্যা ও কপালের উপর নির্ভর করে।
বিদ্রঃ আমি আগেরদিন চাকরি ছেড়ে পরেরদিন বাসায় এসে শুয়েছিলাম। রাতে দেখলাম আমার ঢাবি সুপারভাইজর আমাকে মেইল করেছেন। পরদিন যাবার পর তিনি একটি লিংক ধরিয়ে বললেন এপ্লাই করো। করলাম। মাসখানেকপর একসেপ্টেন্স+এডমিশন লেটার চলে আসলো। এরপর ভিসা নিয়ে টিকিট কেটেই........... ✈️ ......... আলহামদুলিল্লাহ !
স্যারেদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখলে, সৎ থাকলে অনেককিছু পাওয়া যায়। :)
ফটো শ্রমিকঃ Noman মিয়া :*
Comments
Post a Comment