গবেষণার ধাপগুলি (এখানে ক্লিক করুন) শেষ করবার পর তা প্রকাশের জন্য নানা জার্নালের দ্বারস্থ হতে হয়। সেখানকার কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে যা কঠোর ভাবে অনুসরণ করতে হয়। না হলে মাঝে মাঝে এলোমেলো গবেষণাপত্র সাজানোর জন্য অনেক সময় গবেষণাপত্র ফেরত পাঠানো হয়। প্রথমেই দেখতে হয় আপনার গবেশণাটি তাদের Aim & Scope এর সাথে যাচ্ছে কিনা বা আপনার বিষয়ে তারা গবেষণা প্রকাশ করে কিনা। সেটা মিলে গেলে তাদের স্টাইল অনুযায়ী আপনার গবেষণাপত্রটি সাজিয়ে ফেলতে হবে নিজ হাতেই। এক এক প্রকাশনীর এক এক রকম সাজানোর নিয়ম রয়েছে। তবে গবেষণাপত্র পাঠানোর নিয়ম ২ ভাগে বিভক্ত। যথাঃ
- গবেষণাপত্র সাজানো
- গবেষণাপত্র ধাপে ধাপে প্রকাশনীর সিস্টেমে আপলোড করা
তো প্রথমেই গবেষণাপত্র সাজানো নিয়ে তাদের সব নিয়মকানুন পড়তে হবে। সেগুলি নিয়ে এখানে (ক্লিক করুন) বলা হয়েছে। এরপরই শুরু হয় প্রকাশনীর সিস্টেমে আপলোডের জন্য বসা। তার জন্য সাধারণত নিচের জিনিসগুলি প্রস্তুত করতে হয়। যথাঃ
- কভার লেটার
- গবেষণাপত্র
- ভাল রেজুলুশনে সব ছবি ও ফিগারের ফাইল
- টেবিলের ডকুমেন্ট
- কপিরাইট ফর্মে সকলের স্বাক্ষর
- ৩ থেকে ৪ জন রিভিউয়ার প্রফেসরের নাম, ঠিকানা ও ইমেইল
- নানা ধরনের অনুমতিপত্র (যদি লাগে)
- সাপ্লিমেন্টারি ডাটা (যদি থাকে)
এবার এই তথ্য ও ফাইল গুলি হাতে নিয়ে বসতে হয় জার্নালে পেপার সাবমিট করতে। এক এক জার্নালের এক এক ধরনের সাবমিশন সিস্টেম থাকে। কোন কোন জার্নালে সব ফাইল জিপ করে ইমেইল করলেই হয়ে যায় তো আবার কোন কোন জার্নালে ফাইলগুলি আলাদা আলাদা করে তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে নানা বক্সে আপলোড করতে হয়। এবং কোন সাবমিশন সিস্টেমে গেলেই তারা সাবমিশনের ডিটেইল নিয়মকানুর বলে দেয় ও প্রতিটা ধাপের উপরে লেখা থাকে যে ওই ধাপে কি কি করতে হবে। সুতরাং টেনশনের কিছু নেই তেমন।
নানা ধরনের সাবমিশন সিস্টেম আছে। যেমন ইভাইস, এডিটোরিয়াল ম্যানেজার, সাইন্স এলার্ট ইত্যাদি। এক এক জার্নাল তাদের পছন্দ মতো সিস্টেম ব্যবহার করে যার লিং এই জার্নালের হোম পেজেই দেয়া থাকে কোন এক কোণায়। সেখানে ক্লিক করলেই হবে। যেমন স্প্রিঞ্জারেরর সাবমিশন লিংকে ক্লিক করলে উপরের ছবিটির মতো আসবে। সেখানকার ধাপ যেমনঃ
- Type, Title, Abstract
- Type: রিসার্চটি কোন ধরনের টা পছন্দ করতে হয় যেমন রিভিউ নাকি নতুন গবেষনা নাকি শুধু রিপোর্ট ইত্যাদি...
- Title: এখানে টাইটেল লিখতে হয় বা কপিপেস্ট করে দিলেও হয়।
- Abstract: এখানে এবস্ট্রাক্ট লিখতে হয় বা কপিপেস্ট করে দিলেও হয়।
- File upload: এখানে উপরে বলা সবগুলি ফাইল নির্ধারিত বক্সে আপলোড করতে হয় ক্রামান্বয়ে। কোন ফরম্যাটের ফাইল আপলোড করতে হবে তা ওখানে দেয়া থাকবে। যেমনঃ Doc, Docx, JPG, PNG, Tiff etc.
- Attributes: এখানে কিছু শব্দ দিতে হয় যা গবেষণাকে ইংগিত করে।
- Author & Institutions: এখানে গবেষণাপত্র টির সকল গবেষকের নাম ক্রমঅনুসারে দিতে হয় তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা সহ।
- Reviewers & Editors: এখানে আপনি যা নিয়ে গবেষণা করেছেন সেই বিষয়ে আগে যারা গবেষণা করেছেন তাদের ভেতর হতে ৩-৪ জন প্রফেসরের নাম,ইমেইল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঠিকানা দিতে হয় রিভিয়ার হিসেবে।
- Details & Comments: এখানে কভার লেটার টি দিতে হয় এবং গবেষণাটি বৈধ ভাবে করেছেন কিনা তা সংক্রান্ত কিছু প্রশ্ন উত্তর দিতে হয়।
- Review & Submit: এখানে এতক্ষণ যা যা দিলেন তা সব একসাথে দেখাবে। সব ঠিক আছে কিনা তা চেক করে View PDF Proof এ চাপ দিয়ে নিজের গবেষণাপত্র টি ভাল করে দেখে তারপরে চাপ দিতে হয় সাবমিট বাটনে।
Submission Successful
দেখবেন সাথে সাথে আপনিসহ আপনার গবেষণা পত্রের সব গবেষকের ইমেইল বার্তা চলে গেছে। এখানে বলে রাখা ভাল যে এক এক জার্নালের Reference style এক এক রকম। তাই সাবমিশনের সময় তাদের কোন একটি পেপার নাময়ে ও ওদের ওয়েবসািইট হতে Reference style দেখে নেয়া ভাল। তা না হলে অনেক এডিটর-ই বিরক্ত হতে পারে। নিচে ধাপগুলির ছবি দেয়া হলোঃ

এভাবেই ধাপে ধাপে প্রকাশিত হয় গবেষণা.....
কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রকাশনীর গাইডলাইন লিংক এখানেঃ
- স্প্রিঞ্জার (এখানে ক্লিক করুন)
- এলসভিয়ার (এখানে ক্লিক করুন)
- টাইলর ফ্রান্সিস (এখানে ক্লিক করুন)
- নেচার (এখানে ক্লিক করুন)
- পিলোস ওয়ান (এখানে ক্লিক করুন)
- সাইন্স এলার্ট (এখানে ক্লিক করুন)
- NCBI (এখানে ক্লিক করুন)
তাহলে ? শুরু করে দিন। আর আমার জন্য দুয়া করবেন। আমিন।
Comments
Post a Comment