Skip to main content

গবেষণাপত্র Submission এর নিয়মাবলী

 গবেষণার ধাপগুলি (এখানে ক্লিক করুন) শেষ করবার পর তা প্রকাশের জন্য নানা জার্নালের দ্বারস্থ হতে হয়। সেখানকার কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে যা কঠোর ভাবে অনুসরণ করতে হয়। না হলে মাঝে মাঝে এলোমেলো গবেষণাপত্র সাজানোর জন্য অনেক সময় গবেষণাপত্র ফেরত পাঠানো হয়। প্রথমেই দেখতে হয় আপনার গবেশণাটি তাদের Aim & Scope এর সাথে যাচ্ছে কিনা বা আপনার বিষয়ে তারা গবেষণা প্রকাশ করে কিনা। সেটা মিলে গেলে তাদের স্টাইল অনুযায়ী আপনার গবেষণাপত্রটি সাজিয়ে ফেলতে হবে নিজ হাতেই। এক এক প্রকাশনীর এক এক রকম সাজানোর নিয়ম রয়েছে। তবে গবেষণাপত্র পাঠানোর নিয়ম ২ ভাগে বিভক্ত। যথাঃ

  1. গবেষণাপত্র সাজানো
  2. গবেষণাপত্র ধাপে ধাপে প্রকাশনীর সিস্টেমে আপলোড করা

তো প্রথমেই গবেষণাপত্র সাজানো নিয়ে তাদের সব নিয়মকানুন পড়তে হবে। সেগুলি নিয়ে এখানে (ক্লিক করুন) বলা হয়েছে। এরপরই শুরু হয় প্রকাশনীর সিস্টেমে আপলোডের জন্য বসা। তার জন্য সাধারণত নিচের জিনিসগুলি প্রস্তুত করতে হয়। যথাঃ

  1. কভার লেটার
  2. গবেষণাপত্র
  3. ভাল রেজুলুশনে সব ছবি ও ফিগারের ফাইল
  4. টেবিলের ডকুমেন্ট
  5. কপিরাইট ফর্মে সকলের স্বাক্ষর
  6. ৩ থেকে ৪ জন রিভিউয়ার প্রফেসরের নাম, ঠিকানা ও ইমেইল
  7. নানা ধরনের অনুমতিপত্র (যদি লাগে)
  8. সাপ্লিমেন্টারি ডাটা (যদি থাকে)

এবার এই তথ্য ও ফাইল গুলি হাতে নিয়ে বসতে হয় জার্নালে পেপার সাবমিট করতে। এক এক জার্নালের এক এক ধরনের সাবমিশন সিস্টেম থাকে। কোন কোন জার্নালে সব ফাইল জিপ করে ইমেইল করলেই হয়ে যায় তো আবার কোন কোন জার্নালে ফাইলগুলি আলাদা আলাদা করে তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে নানা বক্সে আপলোড করতে হয়। এবং কোন সাবমিশন সিস্টেমে গেলেই তারা সাবমিশনের ডিটেইল নিয়মকানুর বলে দেয় ও প্রতিটা ধাপের উপরে লেখা থাকে যে ওই ধাপে কি কি করতে হবে। সুতরাং টেনশনের কিছু নেই তেমন।

নানা ধরনের সাবমিশন সিস্টেম আছে। যেমন ইভাইস, এডিটোরিয়াল ম্যানেজার, সাইন্স এলার্ট ইত্যাদি। এক এক জার্নাল তাদের পছন্দ মতো সিস্টেম ব্যবহার করে যার লিং এই জার্নালের হোম পেজেই দেয়া থাকে কোন এক কোণায়। সেখানে ক্লিক করলেই হবে। যেমন স্প্রিঞ্জারেরর সাবমিশন লিংকে ক্লিক করলে উপরের ছবিটির মতো আসবে। সেখানকার ধাপ যেমনঃ

  1. Type, Title, Abstract
    1. Type: রিসার্চটি কোন ধরনের টা পছন্দ করতে হয় যেমন রিভিউ নাকি নতুন গবেষনা নাকি শুধু রিপোর্ট ইত্যাদি...
    2. Title: এখানে টাইটেল লিখতে হয় বা কপিপেস্ট করে দিলেও হয়।
    3. Abstract: এখানে এবস্ট্রাক্ট লিখতে হয় বা কপিপেস্ট করে দিলেও হয়।
  2. File upload: এখানে উপরে বলা সবগুলি ফাইল নির্ধারিত বক্সে আপলোড করতে হয় ক্রামান্বয়ে। কোন ফরম্যাটের ফাইল আপলোড করতে হবে তা ওখানে দেয়া থাকবে। যেমনঃ Doc, Docx, JPG, PNG, Tiff etc.
  3. Attributes: এখানে কিছু শব্দ দিতে হয় যা গবেষণাকে ইংগিত করে।
  4. Author & Institutions: এখানে গবেষণাপত্র টির সকল গবেষকের নাম ক্রমঅনুসারে দিতে হয় তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা সহ।
  5. Reviewers & Editors: এখানে আপনি যা নিয়ে গবেষণা করেছেন সেই বিষয়ে আগে যারা গবেষণা করেছেন তাদের ভেতর হতে ৩-৪ জন প্রফেসরের নাম,ইমেইল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঠিকানা দিতে হয় রিভিয়ার হিসেবে।
  6. Details & Comments: এখানে কভার লেটার টি দিতে হয় এবং গবেষণাটি বৈধ ভাবে করেছেন কিনা তা সংক্রান্ত কিছু প্রশ্ন উত্তর দিতে হয়।
  7. Review & Submit: এখানে এতক্ষণ যা যা দিলেন তা সব একসাথে দেখাবে। সব ঠিক আছে কিনা তা চেক করে View PDF Proof এ চাপ দিয়ে নিজের গবেষণাপত্র টি ভাল করে দেখে তারপরে চাপ দিতে হয় সাবমিট বাটনে।

Submission Successful

দেখবেন সাথে সাথে আপনিসহ আপনার গবেষণা পত্রের সব গবেষকের ইমেইল বার্তা চলে গেছে। এখানে বলে রাখা ভাল যে এক এক জার্নালের Reference style এক এক রকম। তাই সাবমিশনের সময় তাদের কোন একটি পেপার নাময়ে ও ওদের ওয়েবসািইট হতে Reference style দেখে নেয়া ভাল। তা না হলে অনেক এডিটর-ই বিরক্ত হতে পারে। নিচে ধাপগুলির ছবি দেয়া হলোঃ

এভাবেই ধাপে ধাপে প্রকাশিত হয় গবেষণা.....

কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রকাশনীর গাইডলাইন লিংক এখানেঃ

তাহলে ? শুরু করে দিন। আর আমার জন্য দুয়া করবেন। আমিন।

Comments

Popular posts from this blog

থিসিস (Thesis) লেখার ধাপ সমূহ

  সানি, এত ছোট থিসিস লেখলে হবে না, কমপক্ষে ৫০ পৃষ্ঠা তো করো.... দেশী সুপারভাইজরের মুখে এ কথা শুনে আমি চৌটানায় পড়ি.... পেপার লিখতে হলে যদি ৭-১১ পৃষ্ঠাতেই হয়ে যায় তবে সেই জিনিসের থিসিস কেন বড় করতে হবে বা এত এত এত লিখতে হবে..... মনে হচ্ছিলো জীবনটা থিসিস লিখতে লিখতেই বুড়ো হয়ে যাবে... তবে একথা সত্য যে কপিপেস্ট বিদ্যার জোরে আমাদের অনেকেই থিসিস ৭ দিনে সটান করে ফেলে.... পরে গবেষনাপত্র বা পেপার লিখবার সময় ধরা খায়। তবে থিসিস লেখবার ধাপ, নিয়ম ও কারুকার্য Research Methodology নামক কোর্সে পড়ানো হয়। তবে সব ডিপার্টমেন্টের সবাই তেমন সৌভাগ্যবান নাও হতে পারেন এই কোর্স পাবার..... হাহাহা.... আমরা গবেষণা চাই কিন্তু গবেষণা কি করে করতে, পড়তে, লিখতে, দেখাতে হয় তা শেখাই না.... জয় বাংলা !! আসুন বাংলাতে তা দেখে নেয়া যাক... Title শিরোনাম লেখার এক এক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক এক ডিজাইন ব্যবহার করার হয়। বড়ভাইয়ের থিসিস দেখে কপি মারুন। শেষ। Declaration এখানে আপনি লেখবেন যে এই থিসিস করতে গিয়ে আপনি কোন চুরি করেননি ও কপি করেন নি কাউকে, পরিশ্রম করেছেন.... হালকা নিজের ঢোল পিটিয়ে নিচে সই করুন। এখানে আপনি লেখবেন যে এই থি...

জার্নালের ফী কত করে?

মন দিয়ে পড়তে হবে। ছকটি খেয়াল করে দেখি। জার্নালা দু প্রকারঃ ভাল জার্নাল নিম্নমানের জার্নাল ভাল জার্নাল ৪ প্রকারঃ উচ্চ Q1 মধ্য Q2 মোটামুটি Q3 চলে Q4 এখন প্রতিটা Q1, Q2, Q3 ও Q4 এর ধরণ ভেদে দুটি সুবিধা রয়েছেঃ Open Access মানে হলো পুরো পেপারটা ডাউনলোড করা যায়। Close Access মানে হলো খালি এবস্ট্রাক্ট/অনেক ক্ষেত্রে এটাও দেখতে দেয়না। শুধু শিরোনাম দেখায়। পুরো পেপার নিতে হলে ডলার দেয়া লাগে। বা চুরি করা লাগে। আর এই সবগুলির-ই ছবিতে দেয়া সবকটি ক্যাটাগরি রয়েছে। অর্থাৎ ভাল জার্নালেরও C1, C2, C3, C4 এবং C5 রয়েছে। খারাপেরও C1, C2, C3, C4 এবং C5 রয়েছে। আর এদের মধ্যেঃ C1 ছাপানো ফ্রী এবং পুরো পেপার দেখা যায় কিন্তু কোন টাকা লাগে না। C2 ছাপানো ফ্রী এবং পুরো পেপার দেখা যায় কিন্তু কোন টাকা লাগে না। C3 ছাপানো ফ্রী কিন্তু পুরো পেপার দেখা যায় না। C4 পুরো পেপার দেখা যায়। টাকা দেয়া লাগে। সাধারণত প্রিডেটরী জার্নাল এখানে পড়ে। কিছু ভাল জার্নালও আছে এখানে। C5 পুরো পেপার দেখা যায়। টাকা দেয়া লাগে। সাধারণত প্রিডেটরী জার্নালগুলি এখানে পড়ে। কিছু ভাল জার্নালও আছে এখানে যারা পাবলিকেশন চার্জ নেয় না কিন্তু রঙিন ছবি বা গ...

ইন্টার্নশিপ ভাল নাকি থিসিস বা প্রজেক্ট?

  ওসাম দেশের ওসাম নিয়ম। চাকরী করতে গেলে অভিজ্ঞতা লাগবে কোন প্রতিষ্ঠানের আন্ডারে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা ও পাশ করবার কাঠামো টা তেমন করে গড়া হয় নি তাহলে এক্সপেরিয়েন্স সনদ কি নাযিল হবে আসমান হতে? যে কোন বিষয়ের সিলেবাসটা একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে বছরের পর বছর একই বিষয়ের পড়াশুনো বারবার রিপিট করা হচ্ছে সিলেবাস বড় করবার জন্য অথচ কত নতুন বিষয় বাদ পড়ে যাচ্ছে। সেম শিট দিয়ে টার্মের পর টার্ম কাজ চালানো হচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ের... এভাবেই একই গরুর বিভিন্ন নাম দিয়ে কোর্স রিপিটেশন করে মূল্যবান সময় নষ্ট করা হচ্ছে কিন্তু নতুন বিষয় বা সম্ভাবনাগুলি জানছে না কেউ। যেমন কেউ আমাকে মেরিন ইকোলজি ও মেরিন বায়লজির মধ্যে পার্থক্য দেখাতে পারবেন যে এই এই কারণে এই দুটি টপিককে অালাদা ৩ ক্রেডিটের বিষয়রুপে পড়ানো উচিত ও তাতে এই এই ফায়দা হবে.... যেখানে রিমোট সেন্সিং ও ডাটা প্রসেসিং এর একটি ইন্টার্নশিপ ঢুকিয়ে দিলেই কতই না ফায়দা হবে... ব্যবহারিক শিক্ষা + ওই প্রতিষ্ঠান হতে ৬ মাস কাজ করেছে তার সনদ। হয়ে গেল অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট। যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন বিষয়েই এই কাজ করা সম্ভব। ছাত্রছাত্রীরা চয়েজ করবে যে তারা ইন্ট...